আকাশ আলোকচিত্র ধারণ: উলম্ব ও তীর্যক আলোকচিত্র

ভূ-সংস্থানিক জরিপ কিংবা অন্য যে কোন জরিপ কাজের অংশ হিসেবে কোন উঁচু স্থান বা আকাশ থেকে আলোকচিত্র (aerial photograph) ধারণ করা হয়। ক্যামেরার লেন্সের কৌণিকতার মাত্রা অনুযায়ী এ আলোকচিত্র নিম্নরূপ হয়ে থাকে। যেমন-

উলম্ব আলোকচিত্র [Vertical Photograph]: কোন উঁচু স্থান বা আকাশ থেকে ভূ-পৃষ্ঠের বা নিম্নস্থানের দৃশ্যপটের আলোকচিত্র  উলম্বভাবে ধারণ করলে, তাকে উলম্ব আলোকচিত্র (vertical photograph) বলে। সাধারণত স্যাটেলাইট, বিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে সহজে উলম্ব আলোকচিত্র ধারণ করা যায়। এ ধরণের আলোকচিত্র ধারণের সময় ক্যামেরার লেন্স দৃশ্যপটের দিকে উলম্বভাবে বা ৯০ ডিগ্রিতে তাক করানো হয়ে থাকে। উলম্ব আলোকচিত্র ধারণের সুবিধা হল- দৃশ্যপটের আলোকচিত্র যথাযথভাবে প্রতিভাত হয় এবং স্কেলের পরিমাপ সঠিক থাকে।

তীর্যক আলোকচিত্র [Oblique Photograph]: কোন উঁচু স্থান বা আকাশ থেকে ভূ-পৃষ্ঠের বা নিম্নস্থানের দৃশ্যপটের আলোকচিত্র  তীর্যকভাবে ধারণ করলে, তাকে তীর্যক আলোকচিত্র (oblique photograph) বলে। সাধারণত এ ধরণের আলোকচিত্র ধারণের সময় ক্যামেরার লেন্স দৃশ্যপটের দিকে ৯০ ডিগ্রিতে তাক না করে; বরং তীর্যকভাবে ৪৫ – ৮৫ বা ৯৫ – ১১০ ডিগ্রিতে তাক করা হয়ে থাকে। তীর্যক আলোকচিত্র ধারণের সুবিধা হল- অনেক বিস্তৃত এলাকার বা দৃশ্যপটের আলোকচিত্র ধারণ করা যায়। ক্যামেরার লেন্সের সম্মুখভাগের দৃশ্যপটের আলোকচিত্র স্পষ্ট ও স্কেলের পরিমাপ সঠিক থাকে। কিন্তু দূরের বা দিগন্তের দৃশ্যপটের অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হয় এবং স্কেলের পরিমাপ সঠিক থাকে না। ক্যামেরার লেন্সের কৌণিকতার মাত্রা অনুযায়ী এ ধরণের আলোকচিত্র অধিক তীর্যক এবং কম তীর্যক আলোকচিত্র এ দুই প্রকারের হয়ে থাকে।

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *