আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন মুসলমানরাই (দ্বিতীয় পর্ব)

১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে তৃতীয় সমুদ্রযাত্রায় কলম্বাস চলে যান আরো দক্ষিণে। এবার তিনি পা রাখেন দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ত্রিনিদাদ ও ভেনিজুয়েলায়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ভারতবর্ষ আবিষ্কার করতে না পারায় সঙ্গীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কলম্বাস জোরপূর্বক স্থানীয় লোকদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে সচেষ্ট হন। এসময় হাইতিতে যারা বসতি গড়ে তুলেছিল তারা কলম্বাসের সঙ্গ ত্যাগ করে এবং তাকে শৃংখলাবদ্ধ করে স্পেনে ফেরত পাঠায়। অবশ্য রাণী ইসাবেলা তাকে ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীতে তিনি রাণী ইসাবেলার জেরুজালেম দখলের লক্ষ্যে the region I have for believing in the Restoration of the holy thorn to the holy charge militant শীর্ষক একটি স্মারকলিপি জমা দেন এবং রানীকে জেরুজালেমের অভিযানের পরামর্শ দেন।

কলম্বাস ১৫০২ সালের ৯ মে চতুর্থ এবং শেষ অভিযানে বের হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি পা রাখেন হন্ডুরাস, মধ্য আমেরিকার পানামা এবং জ্যামাইকা সান্তিয়াগোতে। এ সময় যা স্মরণীয় তা হলো জামাইকা দ্বীপের কাছে তার জাহাজ বিধ্বস্ত হয়। ফলে তার অভিযাত্রা ভন্ডুল হয়ে যায়। জীবনের শেষভাগে সমুদ্র অভিযানের ফলে তার পায়ের গিটে প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। তার চোখে শক্তিও কমে আসছিল। তবে আরও একটি তিক্ত কথা প্রচলিত রয়েছে। ১৪৯২ সালের পর এই ইউরোপে ভয়ঙ্কর যৌনরোগ সিফিলিস এর প্রকোপ দেখা দেয়। সম্ভবত যে সব ইন্ডিয়ানকে কলম্বাস স্পেনে নিয়ে এসেছিলেন তাদের মাধ্যমে অথবা আমেরিকায় ইন্ডিয়ানদের সংস্পর্শে যাওয়া সমুদ্রচারী ক্র এর মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এই রোগটি। অনেকে ধারণা করে থাকেন যে কলম্বাস সম্ভবত সিফিলিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কলম্বাস এর মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে নানা রকমের মত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার মানে তার শরীরের অংশসমূহ বিভিন্ন স্থানে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে তবে বিভিন্ন সূত্রের মতানুযায়ী তার প্রথম কবরস্থানটি ছিল স্পেনের ক্যাথেড্রাল অফ সিভিলিতে। তার শরীরের কিছু হাড় বা ছাইয়ের কিছু অংশ ডমিনিকান রিপাবলিকের ডমিঙ্গোতে এবং কিছু অংশ নেয়া হয় ইতালির জেনোয়াতে। একসময় সবটাই ছিল কিউবায়।
যাহোক এভাবেই কলম্বাসের জীবনাবসান ঘটে । জীবদ্দশায় তার কোনো বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। ভারত পৌঁছবার নৌপথ আবিষ্কারে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তেমনি জেরুজালেমকে মুসলমানদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এমনকি আরব জাহানের বিরুদ্ধে ক্রুসেড আরম্ভ করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবারে আরো বিস্তারিতভাবে কলম্বাসের বিভিন্ন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা যেতে পারে। [ড. আহমেদ আবদুল্লাহ]


তথ্যসূত্র:
১. বিজ্ঞানে মুসলমানদের দান, ১২ খন্ড, এম আকবর আলী
২. ইন্টারন্যাশনাল কলম্বিয়ান কুইন সেপ্টেনারী অ্যালাইয়্যাস
৩. মাসিক পৃথিবী, এপ্রিল ১৯৯৮
৪. প্রথম আলো, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ছুটির দিনে
৫. কিশোর পত্রিকা, ১৫ এপ্রিল – ১৫ মে ১৯৯৪
৬. মাসিক কওমি কণ্ঠ, জুন ২০০৪
৭. ভোরের কাগজ।


আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন মুসলমানরাই (তৃতীয় পর্ব)


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *