আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন মুসলমানরাই (তৃতীয় পর্ব)

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র জীববিদ্যা বিষয়ক অধ্যাপক জো ইদানিং বেশ জোরেশোরেই বলছেন কলম্বাসের বহুকাল আগেই নাকি মুসলমানরা আমেরিকা পৌঁছেছিল। ব্যারি ফেল সেইসব প্রাচীন ভাষা নিয়ে গবেষণা করেন যা ইতিমধ্যে পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে গবেষণাকালে একবার ব্যারি ফেল পলিনেশিয়া যান এবং সেখানে আপাতদৃষ্টিতে এলোমেলো কিছু পাথর দেখতে পান। অনেক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এগুলো ছিল পলিনেশিয়ান প্রাচীন উপজাতিদের বর্ণমালা। আরো আশ্চর্যের বিষয় হল বর্ণমালাগুলোতে প্রাচীনকালে লিবিয়াতে প্রচলিত প্রাচীন গ্রিক এবং মিশরীয় শব্দের প্রচুর মিল রয়েছে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো আমেরিকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কাজ করতো অ্যালগোনকুইয়ান নামের এক উপজাতি। এই উপজাতীয়দের শব্দ ভাণ্ডারের মধ্যে প্রচুর মিশরীয় শব্দের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে প্রাচীনকালের মিশরীয় কিংবা লিবীয় মানুষ নিশ্চিত ভাবেই আমেরিকা গিয়ে থাকবে। শুধুমাত্র সামাজিক, ব্যবসায়িক এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ থাকলেই কোন এক দেশের ভাষার শব্দ অন্য ভাষায় স্থানান্তর হওয়া সম্ভব। যদি তাই হয়ে থাকে তবে এটা কলম্বাসের জন্মের শত শত বছর আগেই ঘটেছিল। কোন এক সময় ব্যারি ফেল নিউগিনির এক গুহায় একটি লিবীয় ভাষার বইয়ের সন্ধান পান। বইটির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব ২৩২। রচয়িতা মামুন নামের একজন নাবিক। এখানে নিউগিনি এবং ওদের মধ্যে যোগাযোগের ব্যাপারটি আমাদের মনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। কলম্বাস নিজেও তার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তার পিতা জেনোয়াতে সেখানকার মুসলিম নারীদের কাছে জানতে পারেন যে, ইউরোপ থেকে ভ্রমণের ক্রমাগত পূর্বদিকে জাহাজ চালিয়ে যেমন ভারতবর্ষ যাওয়া যায় তেমনি পশ্চিম দিকে জাহাজ চালিয়েও ভারতবর্ষে পৌঁছানো যায়। বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দা হতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে যে অনেক অনুসন্ধানের পর প্রত্নতত্ত্ববিদ, নৃতত্ত্ববিদ, গবেষক এবং ঐতিহাসিকগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, অতি প্রাচীনকাল হতেই আমেরিকায় নানা জাতিগোষ্ঠীর আগমন ঘটে। এছাড়াও মধ্যযুগের মুসলিম বিজয়ী বীরদের কতিপয় স্থাপত্য বিদ্যমান। আমেরিকার অনেক গ্রাম, শহর, নগর এর আরবি নাম বিদ্যমান রয়েছে। লেবাননের বিশিষ্ট গবেষক এবং সাংবাদিক ডাক্তার ইউসুফ মারওয়া এযাবত ৫৬৫ গ্রাম ও শহরের ইসলামী এবং আরবি নাম মূল্যবান গবেষণার মাধ্যমে আমাদেরকে জ্ঞাত করেছেন। তার মধ্যে এসবের অনেকগুলি নামকরণ কলম্বাসের অভিযানের পূর্বেই হয়েছে। অধ্যাপক ব্যারি ফেলের গবেষণার কথা আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। তার রচিত গ্রন্থে আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের ব্যবহার করা অনেক আরবি শব্দের উল্লেখ রয়েছে যা আজও পূর্বের ন্যায় অপরিবর্তিত রূপে আমেরিকায় ব্যবহূত হচ্ছে। ক্রিস্টোফার কলম্বাস নিজেও তার ডায়রিতে একথা জানিয়েছেন যে, তিনি ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ১২ অক্টোবর বাহামার একটি ছোট দ্বীপে অবতরণ করে সে দ্বীপের প্রাচীন নাম পরিবর্তন করে নামকরণ করেন সানসালভেদর। [ড.আহমেদ আবদুল্লাহ]


তথ্যসূত্র:
১. বিজ্ঞানে মুসলমানদের দান, ১২ খন্ড, এম আকবর আলী
২. ইন্টারন্যাশনাল কলম্বিয়ান কুইন সেপ্টেনারী অ্যালাইয়্যাস
৩. মাসিক পৃথিবী, এপ্রিল ১৯৯৮
৪. প্রথম আলো, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ছুটির দিনে
৫. কিশোর পত্রিকা, ১৫ এপ্রিল – ১৫ মে ১৯৯৪
৬. মাসিক কওমি কণ্ঠ, জুন ২০০৪
৭. ভোরের কাগজ।


আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন মুসলমানরাই (চতুর্থ  পর্ব)


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *