ইসলামের আবশ্যিক ইবাদত: রোযা (সাওম) পালনের শিক্ষা ও গুরুত্ব

     ইসলাম ধর্মে ইবাদত বলতে মানুষ কর্তৃক প্রতিদিন মহান আল্লাহর আদেশসমূহ; যেমন- নামায, রোযা, হজ ও যাকাত পালন করা এবং নিষেধসমূহ; যেমন- বেপর্দা, বেহায়াপনা, মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ প্রভৃতি পরিহার করে চলাকে বুঝায়। এ প্রবন্ধে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত রোযা পালনের শিক্ষা ও গুরুত্ব উপস্থাপন করা হল।

     আরবি ‘সাওম’ শব্দের ফার্সি শব্দ হল ‘রোযা’‘রোযা’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ ‘বিরত থাকা’। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী রোযা বা সাওম হল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সুবহে সাদিক (সাধারণত ফজরের আযানের ঠিক আগে) থেকে সূর্য অস্ত (সাধারণত মাগরিবের আযান) পর্যন্ত নিয়তের সাথে পানাহার (খাওয়া) ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা। প্রাপ্ত বয়সের সকল পুরুষ ও নারীর উপর আরবি রমযান মাসের ২৯/৩০দিন রোযা বা সাওম পালন করা ফরজ (আবশ্যক)।

     রোযা (সাওম) পালনের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা ও গুরুত্ব: আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত সাওম পালনের মাধ্যমে মানুষের মনে যেমন আল্লাহ ভীতি জন্মে, তেমনি আল্লাহর প্রতি ভালবাসার জন্ম হয়। মহান আল্লাহ আল-কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলেন-

”তোমাদের উপর সাওম (রোযা) ফরজ করা হয়েছে যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে, যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার।”

রোযা বা সাওম মানুষকে সকল প্রকারের লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রোধ, ক্ষোভ, কামভাব প্রভৃতির বশবর্তী হয়ে অনেক খারাপ বা মন্দ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে শেখায়। যে কোন ব্যক্তি ও তার খারাপ কাজের মাঝে রোযা (সাওম) ঢাল স্বরূপ কাজ করে থাকে। বুখারী ও মুসলিম হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-

” সাওম বা রোযা হল ঢালস্বরূপ।”

মহান আল্লাহ মানুষের সকল প্রকার সৎ কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। আর রোযার প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ রয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন-

“সাওম (রোযা) আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।” [বুখারী]

সওয়াবের আশায় রোযা (সাওম) পালন করায় আল্লাহ তায়ালা রোযা পালনকারীর পূর্বের সকল গুনাহ বা পাপ ক্ষমা করে দেন। বুখারী হাদিসে মহানবী (স.) বলেছেন-

“যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের আশায় রমযান মাসে রোযা রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা করে দেন।”

    রোযা (সাওম) পালনের সামাজিক শিক্ষা ও গুরুত্ব: রমযান মাসে একজন রোযা বা সাওম পালনকারী ক্ষুধার্ত ব্যক্তি না খেয়ে থাকার মাধ্যমে আরেকজন অনাহারী ব্যক্তির ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা সহজে বুঝতে পারে। এতে ঐ রোযা পালনকারী ব্যক্তির মধ্যে অসহায় ও অনাহারী মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়। ইবনে খুযায়মা হতে বর্ণিত মহানবী (স.) বলেছেন-

“এ মাস (রমযান) সহানুভূতির মাস।”

রোযা বা সাওম স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরকে দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। বুখারী ও মুসলিম হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন-

“রাসুলুল্লাহ (স.) লোকজনের মধ্যে অধিক দানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমযান আসলে তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।”

রোযা (সাওম) পালনকারী ব্যক্তিগণ অন্যায় কাজ এবং অশ্লীল কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে। সকল ধরনের ঝগড়া বিবাদ ও হানাহানী থেকে দূরে থাকে। যার ফলে সমাজের মধ্যে শান্তি অবস্থা বিরাজ করে। আবার, অধিক সওয়াবের আশায় রমযান মাসে একে অন্যকে সাহারী ও ইফতার করান এবং দরিদ্র লোকজনকে দান খয়রাত করেন। এতে করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত হয়।

     সর্বোপরি, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম রোযা বা সাওম পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জিত হয়। আর রোযার মত ইসলামের মৌলিক আব্যশিক (ফরজ) কাজকে অস্বীকার করলে যে কোন ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে। [সংকলিত]

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *