একটি সহজ পরীক্ষা : ডুবোজাহাজে (submarine) বায়ু শক্তির ব্যবহার


প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে মানুষ বিভিন্নভাবে বায়ুকে ব্যবহার করে চলেছে। বায়ু শক্তি ব্যবহার করে মানুষ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, বিমানে চড়ে আকাশ পথে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাচ্ছে। আবার এ বায়ু শক্তিকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ডুবোজাহাজ (submarine)। এ ডুবোজাহাজ পানির নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে। তবে আমরা কি জানি এ ডুবোজাহাজে বায়ু শক্তি কিভাবে কাজ করে? আসুন একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে দেখি, যেভাবে বায়ু শক্তি ব্যবহার করে একটি ডুবোজাহাজ পরিচালিত হয়।
এখানে আমরা দেখব, বায়ু শক্তি ব্যবহার করে ডুবোজাহাজ তৈরী করা যায়, যা পানির উপরে উঠতে  ও ডুব দিতে পারে।

উপকরণ: ১টি সরু গলাবিশিষ্ট প্লাষ্টিকের বোতল, সুপারগ্লু বা আঠাল ঘাম, ২-৩ ফুট লম্বা ১ টুকরো রাবারের চিকন পাইপ, কয়েকটি ধাতব মুদ্রা (coin) এবং ১টি কসটেপ সংগ্রহ করি। এবার –

১. প্লাষ্টিকের বোতলটির এক পাশে কয়েকটি ছিদ্র করি। বোতলের ছিদ্র করা পাশটিতে কসটেপ দিয়ে ৪ থেকে ৫টি ধাতব মুদ্রা (coin) লাগাই। (ধাতব মুদ্রাগুলো ওজনের কাজ করবে, ভারসাম্য ঠিক রেখে পানিতে ভাসতে ও ডুবতে সাহায্য করবে)

২. বোতলের ছিপিটি ছিদ্র করি। রাবারের চিকন পাইপটির এক প্রান্ত বোতলের ছিপিটির ছিদ্র দিয়ে ১ থেকে ২ ইঞ্চির মত প্রবেশ করাই এবং কোন ফাঁকা থাকলে তা সুপারগ্লু বা আঠাল ঘাম দিয়ে বন্ধ করে দেই এবং ছিপিটি বোতলের মুখে লাগাই।

৩. বোতলটিকে পানিতে ভাসাই, খেয়াল রাখি যেন বোতলের ধাতব মুদ্রাযুক্ত ও ছিদ্রবিশিষ্ট পাশটি নিচের দিকে থাকে।

৪. পাইপটির অপর প্রান্তটি মুখে লাগিয়ে মুখের ভিতরে বায়ু টানি। কি দেখছি? বোতলটি পানি ভর্তি হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে পানির নিচে ডুবছে।

৫. এবার পাইপটি দিয়ে বোতলটির ভিতরে ফুঁ দেই। যখন ফুঁ দিব, তখন পানি বোতলের ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে যাবে এবং বোতলটি ধীরে ধীরে ভেসে উঠবে। অর্থাৎ যখন ডুবোজাহাজটি বায়ুতে পূর্ণ হয়, তখন তা আস্তে আস্তে পানির পৃষ্ঠে চলে আসে। এভাবে বায়ুর পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে ডুবোজাহাজটিকে ডুবানো বা ভাসানো যায়।

যেভাবে কাজ করল : বায়ু পানির চেয়ে হালকা। যখন ডুবোজাহাজটি বায়ু দিয়ে পূর্ণ করা হয়, তখন জাহাজটি পানির চেয়ে হালকা হয়ে যায় এবং পানির পৃষ্ঠে ভেসে উঠে। [মো. শাহীন আলম]


A simple Test: The Use of Wind Energy in a Submarine



Add a Comment

Your email address will not be published.