এক্স-রে: কার্য পদ্ধতি ও ব্যবহার | X-Ray: Work Process & Uses

   এক্স-রে (x-ray) হল সাধারণ দৃশ্যমান আলোর মতই বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ (electromagnetic wave), তবে এক্স-রে-এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণ দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কয়েক হাজার গুণ ছোট এবং শক্তিশালী, যা খালী চোখে দেখা যায় না।

চিত্র: এক্স-রে কার্য পদ্ধতি।

   এক্স-রে কার্য পদ্ধতি: ১টি কাচের গোলকের দুই পাশে ২টি ইলেকট্রোড (electrode) থাকে, যার একটি হল ক্যাথোড (cathode) ও অপরটি অ্যানোড (anode)।

টাংস্টেন ফিলামেন্টের (tungsten filament) মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে ক্যাথোডকে উত্তপ্ত করা হয়। উত্তাপের কারণে ফিলামেন্ট (filament) থেকে ইলেক্ট্রন (electron) বের হয়ে আসে। অ্যানোডে ধনাত্বক ভোল্ডেজ (positive voltage) থাকে। আর এ ধনাত্বক ভোল্ডেজের কারণে ইলেক্ট্রন দ্রুত বেগে অ্যানোডের দিকে ছুটে যায়। ভোল্টেজ যত বেশি হবে, ইলেক্ট্রন তত বেশি দ্রুত বেগে অ্যানোডের দিকে ছুটে যায়। এক্স-রে টিউবের মধ্যে এ ভোল্টেজের মান প্রায় ১০০ হাজার হতে পারে। ক্যাথোড (cathode) থেকে প্রচন্ড শক্তিতে ছুটে আসা ইলেক্ট্রন (electron) অ্যানোডকে দ্রুত বেগে আঘাত করে। ইলেক্ট্রনের এ দ্রুত বেগে আঘাতের কারণে অ্যানোডের পরমাণুর (atom) অভ্যন্তরের কক্ষপথে অবস্থিত ইলেক্ট্রন (electron) কক্ষপথ চ্যুত হয়। তখন বাহিরের কক্ষপথ থেকে কোন ইলেক্ট্রন (electron) এসে সে স্থানটি পূরণ করে। এ সময় যে শক্তি উদ্বৃত্ত থাকে, সেটি শক্তিশালী এক্স-রে হিসেবে বের হয়ে আসে। ঠিক কত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (wave length) এক্স-রে (x-ray) বের হবে, সেটি নির্ভর করে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত ধাতুর উপরে। তবে তামা (copper) অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

   এক্স-রে-এর ব্যবহার: বর্তমানে চিকিৎসাসহ প্রযুক্তি জগতের নানা কাজে এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। নিচে এক্স-রের ব্যবহার সংক্ষেপে তুলে ধরা হল:

ক) ভাঙ্গা, ফাটা, ক্ষয়প্রাপ্ত ও স্থানচ্যুত হাড় খুব সহজে শনাক্ত করা হয়।

খ) দাঁতের ক্ষয় ও ক্যাভিটি (cavity) বের করা হয়।

গ) পেটের মধ্যকার অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা (intestinal obstruction) সহজে শনাক্ত করা হয়।

ঘ) কিডনি (kidney) ও পিত্তথলির (gallbladder) পাথরের অস্তিত্ব বের করা হয়।

ঙ) ফুসফুসের রোগ; যেমন- যক্ষা (tuberculosis), ফুসফুসের ক্যান্সার (lung cancer) ও নিউমোনিয়া (pneumonia) নির্ণয় করা হয়।

চ) এক্স-রে ক্যান্সার কোষ (cancer cell) মারতে পারে। তাই ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিও থেরাপীতে (radio therapy) এক্স-রে ব্যবহৃত হয়।

   এক্স-রে ব্যবহারে সতর্কতা: এক্স-রে থেকে নির্গত অপ্রয়েজনীয় বিকিরণ শরীরের ক্ষতি করতে পারে। এ কারণে কোন রোগীর শরীরের যে অংশে এক্স-রে ব্যবহার করা হয়, সে অংশটুকু ব্যতিত বাকি শরীর সীসা দিয়ে তৈরি এপ্রোন দিয়ে ডেকে দিতে হয়। বেশি প্রয়োজন না হলে গর্ভবতী নারী বা মায়েদের তলপেটের অংশবিশেষে এক্স-রে ব্যবহার না করাই উত্তম। [সংকলিত]

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *