ঐতিহ্য অন্বেষণে Dr. Edward C. Harris এর উদ্ভাবিত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন পদ্ধতি | Harris Matrix

          ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল দু’টি। যথা- (১) লিখিত উপাদান ও (২) অলিখিত উপাদান। ইতিহাসের লিখিত উপাদানসমূহ বই-পুস্তকে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর ইতিহাসের অলিখিত উপাদানসমূহ হল প্রত্নবস্তু বা পুরাকীর্তি, যা পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সততা প্রমাণ, ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করতে এবং প্রাচীন সভ্যতাকে জানার জন্য প্রত্নবস্তু বা পুরাকীর্তির সন্ধান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রত্নবস্তু বা পুরাকীর্তির অনুসন্ধান ও উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল প্রত্নতাত্ত্বিক খনন। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রত্নতত্ত্ববিদগণ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। এসব পদ্ধতির মধ্যে Sir Robert Eric Mortimer Wheeler Dr. Edward C. Harris কর্তৃক উদ্ভাবিত পদ্ধতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানকালের প্রত্নতত্ত্ববিদগণ প্রত্নতাত্ত্বিক খননকে বিজ্ঞানসম্মত ও খননকালে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে বেশি মনোযোগী। Dr. Edward C. Harris কর্তৃক উদ্ভাবিত Harris Matrix প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ক্ষেত্রে তুলনামূলক অধিক বিজ্ঞানসম্মত ও সহজবোধ্য পদ্ধতি বলা যায়, যা অনেকের কাছে Unit পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। আর এ কারণে  Dr. Harris কর্তৃক উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। এ প্রবন্ধে Harris Matrix পদ্ধতি অবলম্বনে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন, মাঠ পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধকরণ ও Harris Matrix Composer (HMC) ব্যবহার করে খননকালে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সম্পর্কে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উন্মোচিত নিদর্শন, চুয়াডাঙ্গা।

          হ্যারিস ম্যাট্রিক্স (Harris Matrix): ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে Dr. Edward C. Harris কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননের স্তরবিন্যাস (stratigraphy) উপস্থাপনের একটি পদ্ধতি হল হ্যারিস ম্যাট্রিক্স (Harris Matrix)। হ্যারিস ম্যাট্রিক্স পদ্ধতিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত স্তরসমূহের (strata) এককের মধ্যকার স্তরবিন্যাসগত (strati-graphic) সম্পর্কসমূহ একটি ধারাবাহিক নকশার (diagram) মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। হ্যারিস ম্যাট্রিক্স হল একটি প্রত্নস্থানের তুলনামূলক ঘটনাপঞ্জির (relative event calendar) ধারাবাহিকভাবে নকশায় (diagram) উপস্থাপন। প্রকৃতপক্ষে হ্যারিস ম্যাটিক্স হল কোন প্রত্নস্থানের স্তরবিন্যাসগত (strati-graphic) সম্পর্কসমূহ বুঝানোর একটি মানসম্মত পদ্ধতি।

       স্তরবিন্যাসগত লিপিবদ্ধকরণ (strati-graphic recording): প্রত্নতাত্ত্বিক খননকালে প্রাপ্ত প্রতিটি ঘটনা (event) বা স্তর (stratum) বা প্রেক্ষিতের (context) (যেমন- ভূ-পৃষ্ঠ, মাটির সঞ্চায়ন/স্তর, দেয়াল, পাকা মেঝে প্রভৃতিসহ যেকোন সমগোত্রীয় ঘটনা/স্তর) জন্য আলাদা আলাদা একক (unit) বা সংখ্যা (1, 2, 3……) দিয়ে নির্ধারিত নোটবুকে বা ফরমে লিপিবদ্ধ করা হয়। লিপিবদ্ধ করার সময় চিত্র অংকন করে প্রতিটি একক বা প্রেক্ষিতকে সীমারেখা বহুভূজ (boundary polygon) দিয়ে আলাদা করা হয়। খননকালে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং অংকিত চিত্র থেকে প্রতিটি একক (unit) বা প্রেক্ষিতের (context) পারস্পরিক অবস্থান বুঝে প্রত্নস্থানের স্তরবিন্যাসগত (strati-graphic) একটি ধারাবাহিক নকশা (diagram) উপস্থাপন করা হয়।

        বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজের শুরুর দিকে যে কোন প্রত্নস্থল বা প্রত্নতাত্ত্বিক ঢিবির দিক (বিশেষ করে উত্তর দিক বা north line) ও উপরিপৃষ্ঠের উচ্চতাগত পরিমাপ (altitude) নির্ণয় করা হয়। এরপর প্রত্নস্থল বা প্রত্নতাত্ত্বিক ঢিবিকে নির্দিষ্ট পরিমাপের (৬ মিটার x ৬ মিটার বা ৫ মিটার x ৫ মিটার প্রভৃতি) কতগুলো বর্গে (square) বা ছকে বিভক্ত করে খননের জন্য প্রাথমিক মাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়। পরিকল্পিতভাবে বিভক্ত বর্গ বা ছক অনুযায়ী কাজ করে খুব সহজেই প্রত্নতাত্ত্বিক খনন নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধ করা যায়।

         প্রত্নতাত্ত্বিক ঢিবির যে কোন একটি বর্গের (square or trench) উপর থেকে নিচ পর্যন্ত খনন চলাকালে Harris Matrix পদ্ধতি অবলম্বন করে যেভাবে তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধ (record) করা হয়, তা উদাহরণস্বরূপ নিম্নের চিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন করা হল।

চিত্র ১: প্রত্নতাত্ত্বিক খনন খাদে (trench) প্রাপ্ত স্তরগুলোর বিন্যাসের চিত্র (উপর থেকে নিচ)।

        প্রত্নতাত্ত্বিক খননের শুরুতে বর্গের উপরিপৃষ্ঠের (surface) ভূমি বন্ধুরতা (land roughness), উচ্চতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর Harris Matrix পদ্ধতি অবলম্বন করে বর্গের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রাপ্ত প্রতিটি ঘটনা বা স্তর বা প্রেক্ষিতের বৈশিষ্ট্য ও অবস্থান অনুযায়ী আলাদা আলাদা একক (unit) দিয়ে নোটবুকে বা আলাদা ফরমে তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধ ও চিত্র (আনুভূমিক ও উলম্ব) অংকন করা হয়। যেমন-

         মনে করুন, উপর্যুক্ত চিত্র ১-এর সবচেয়ে উপরের দিকে প্রাপ্ত প্রেক্ষিত বা স্তরটিকে 1 একক (unit) দিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রেক্ষিতগত 1 এককের স্তরটি অপসারণের পরে নিচে আলাদা বৈশিষ্ট্যের অপর একটি প্রেক্ষিত বা স্তর পাওয়া যায়, যা 2 একক দিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রেক্ষিতগত 2 এককের স্তরটি অপসারণের পরে নিচে আলাদা বৈশিষ্ট্যের তিনটি প্রেক্ষিত বা স্তর পাওয়া যায়, যা 3, 4 (wall) ও 5 একক দিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। 3 ও 5 এককের স্তর আলাদা বর্ণ ও বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট। 3 ও 5 এককের স্তরদ্বয় অবস্থানগত কারণে সমসাময়িক হতে পারে। তবে 3 ও 5 এককদ্বয় 4 (wall) এককের ধ্বংসাবশেষের দেয়ালের সমসাময়িক ঘটনা নয়। 5 এককের স্তরটি অপসারণের পরে নিচে আলাদা প্রেক্ষিত 8 (floor) পাওয়া। 4 (wall) এককের সাথে প্রেক্ষিত 8 (floor) সরাসরি সংযোগ রয়েছে। তবে নির্মাণ কাজের ধারাক্রম অনুযায়ী আগে 4 (wall) একক এককের দেয়াল এবং তারপরে 8 (floor) এককের মেঝেটি নির্মাণ করার বা ঘটার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। 3 ও 8 (floor) এককের মেঝেটির নিচে এবং 4 (wall) এককের উভয় পাশে আলাদা আরেকটি বর্ণের প্রেক্ষিত বা স্তর পাওয়া যায়, যা 6 একক দিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। 4 (wall) এককের দেয়ালের কাজ শেষে খাদ (trench) পূরণের জন্য প্রেক্ষিত  6 এককের স্তরটি দিয়ে ভরাট করা হয়। এর আগে এ স্থানে 4 (wall) এককের কাজ করার জন্য কেঁটে (cut) খাদ (trench) করা হয়। আর কাঁটার চিহ্নটিকে 7 একক দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। 7 একক একটি ঘটনামাত্র, তবে ভৌত (physical) স্তর নয়। প্রেক্ষিত 9 ও 10 এককদ্বয় একই বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট স্তর। তবে 7 একক কর্তৃক 9 ও 10 একককে কেঁটে আলাদা করেছে। 9 ও 10 এককদ্বয় বৈশিষ্ট্য ও অবস্থানগত দিক দিয়ে সমান (equivalent) স্তর হতে পারে। 10 এককের নিচে প্রেক্ষিত 11 (floor) একক ও 9 এককের নিচে প্রেক্ষিত 12 (floor) একক পাওয়া যায়। 11 ও 12 এককদ্বয় একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মেঝে (floor) হলেও 7 একক কর্তৃক কেঁটে আলাদা করেছে। 11 ও 12 এককদ্বয় প্রেক্ষিত 13 এককের স্তরটির উপরে অবস্থান করছে।

     হ্যারিস ম্যাট্রিক্স কম্পোসার [Harris Matrix Composer (HMC)] ও এর ব্যাখ্যা: উপর্যুক্ত চিত্র ১ এবং বর্ণনা অনুসারে চিত্র ২-এ স্তরবিন্যাসের ম্যাট্রিক্স (matrix) বা ঘটনাক্রম বা ধারাবাহিক নকশাটি নিম্নরূপ করে দেখানো হল। স্তরবিন্যাসের ম্যাট্রিক্স (matrix) বা ঘটনাক্রম বা ধারাবাহিক নকশাটি হাতে-কলমে করা যায়, আবার Harris Matrix Composer নামক সফটওয়ার ব্যবহার করেও করা যায়। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হল।

চিত্র ২: চিত্র ১ অনুসারে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন খাদের (trench) স্তরবিন্যাসের ম্যাট্রিক্স (matrix) বা ঘটনাক্রম বা ধারাবাহিক নকশা (diagram)।

       প্রেক্ষিত 1 এককটি সবচেয়ে নতুন ঘটনার (latest event) স্তর। তাই এ প্রেক্ষিতগত এককটিকে ম্যাট্রিক্স (matrix) বা ধারাবাহিক নকশার সবচেয়ে উপরে দিকে দেখানো হয়েছে। তার নিচে রয়েছে 2 এককটি। এখানে, 2 এককটি 1 এককের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্তর। তাই ম্যাট্রিক্স বা ধারাবাহিক নকশার 1 এর পরে 2 প্রদর্শন করা হয়েছে। 2 এর নিচে 3 ও 5 আলাদা করে একই লেবেলে প্রদর্শন করা হয়েছে। কারণ 3 ও 5 এককদ্বয় আলাদা বর্ণ ও বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট, তবে অবস্থানগত দিক দিয়ে সমসাময়িক (contemporary) হতে পারে। 5 এককের নিচে 8 প্রেক্ষিতগত মেঝে (floor) প্রদর্শন করা হয়েছে। এখানে, 8 এককটি 5 এককের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্থাপত্যিক মেঝে (floor)। 8 এককের আগে প্রেক্ষিতগত 6 এককের ভরাটের (fill) কাজ করা হয়েছে। তাই ম্যাট্রিক্স বা ধারাবাহিক নকশার 8 এর পরে 6 এককটি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রেক্ষিতগত 6 এককের ভরাটের (fill) কাজ করার আগে 4 এককের দেয়াল (wall) নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে, 4 এককটি 6 এককের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্থাপত্যিক দেয়াল (wall) ধ্বংসাবশেষ। তাই ম্যাট্রিক্স বা ধারাবাহিক নকশার 6 এর পরে 4 এককটি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রেক্ষিতগত 4 এককের স্থাপত্যিক দেয়াল (wall) নির্মাণ করার পূর্বে খাদ (trench) করার জন্য 7 এককের কাঁটার কাজটি করা হয়। খাদ (trench) করার সময় 7 (cut) এককটি প্রেক্ষিতগত 9 ও 10 এবং 11(floor) ও 12 (floor) একককে ছেদ (cut) করে। এ হিসেবে 7 (cut) এককটি প্রেক্ষিতগত 9 ও 10 এবং 11(floor) ও 12 (floor) এককের তুলনায় নতুন ঘটনা। তাই ম্যাট্রিক্স বা ধারাবাহিক নকশার 4 এর পরে 7 এককটি এবং 7 এককের পরে 9 ও 10 এককদ্বয়কে পাশাপাশি প্রদর্শন করা হয়েছে। কারণ 9 ও 10 এককদ্বয় একই বর্ণ ও বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট স্তর এবং অবস্থানগত দিক দিয়ে সমসাময়িক হতে পারে। প্রেক্ষিতগত 9 এর নিচে 11(floor) ও 10 এর নিচে 12 (floor) এককের অবস্থান, যা দেখে সহজে প্রতীয়মান হয়, 11(floor) ও 12 (floor) এককের ধ্বংসাবশেষের মেঝের উপরে  9 ও 10 এককের স্তরদ্বয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে ঘটনার ধারাক্রম অনুযায়ী ম্যাট্রিক্স বা ধারাবাহিক নকশায় তুলনামূলক পুরাতন ঘটনা 11(floor) ও 12 (floor) এককের উপরে 9 ও 10 একক দেখানো হয়েছে। 7 (cut) দিয়ে ছেদকৃত 13 এককের স্তরটি 11(floor) ও 12 (floor) এককের নিচে। সবচেয়ে নিচের স্তর হওয়ার স্বাভাবিকভাবে 13 এককের স্তরটি ম্যাট্রিক্স বা ধারাবাহিক নকশার সর্ব নিচে দেখানো হয়েছে।

      প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও অনুসন্ধান চলাকালে প্রতিটি খনন বর্গে যথাযথ পর্যবেক্ষণ করে স্তরগুলো সনাক্ত ও চিহ্নিত করে একক (unit) দিয়ে লিপিবদ্ধ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রতিটি স্তরে প্রাপ্ত ছোট-বড় প্রত্নবস্তু একক (unit) অনুযায়ী আলাদাভাবে সংগ্রহ করা ও নমুনায়ন (sampling) করা প্রয়োজন। এতে করে প্রতিটি স্তরে প্রাপ্ত ছোট-বড় প্রত্নবস্তু ও নমুনার (sample) তুলনামূলক বিশ্লেষণ (comparative analysis) এবং প্রকৃত সময় নির্ণয়/বিশ্লেষণ (absolute dating/analysis) করা যায়। এর ফলে যেকোন প্রত্নস্থলের প্রকৃত সময়, সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য জানা যায়।


সহায়িকা: C. Traxler & W. Neubauer, THE HARRIS MATRIX COMPOSER – A NEW TOOL TO MANAGE ARCHAEOLOGICAL STRATIGRAPHY, Vienna, Austria.


লেখক: মো: শাহীন আলম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *