কুয়াশা, কুজ্ঝটিকা, ধোয়া ও ধোঁয়াশা | Fog, Mist, ‍Smoke & Smog

কুয়াশা [Fog]: সাধারণত শীতকালে বা শীতপ্রধান এলাকায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সাদা মেঘের মত করে ভেসে বেড়ানো ঘনীভূত জলীয়বাষ্পকে কুয়াশা বলে। অর্থাৎ জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু বা বাতাস ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে অতি সূক্ষ্ম জলকণায় রূপান্তরিত হয়। এসব জলকণা এত সূক্ষ্ম ও হালকা থাকে যে, যা বৃষ্টি বা বারিবিন্দু রূপে পতিত না হয়ে ভূপৃষ্ঠের সংলগ্নে সাদা মেঘের মত করে ভেসে বেড়ায়। কুয়াশাকে দেখে ধোঁয়ার সাথেও তুলনা করা যায়। বায়ুতে কুয়াশার উপস্থিতির ফলে প্রায়শই দৃশ্যমানতা হ্রাস পায়।

কুজ্ঝটিকা [Mist]: সাধারণত ঘন ও গভীর কুয়াশাকে কুজ্ঝটিকা বলা হয়। সাধারণ কুয়াশার তুলনায় কুজ্ঝটিকায় দৃশ্যমানতা বেশি হ্রাস পেয়ে থাকে। ফলে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কুজ্ঝটিকা থেকে অনেক সময়ই ইলশেগুঁড়ির মত বৃষ্টি হতে দেখা যায়।

ধোঁয়া (Smoke): সাধারণত শিল্প-কারখানার এবং যানবাহনের ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধূসর বা গাঢ় ধূসর বা কাল বর্ণের গ্যাসীয় পদার্থকে ধোঁয়া বলা হয়। এ ধোঁয়াতে মূলত কার্বন মনোঅক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসীয় পদার্থ থাকে।  

ধোঁয়াশা [Smog]: সাধারণত ধোঁয়াকে আশ্রয় করে সৃষ্ট কুয়াশাকে ধোঁয়াশা বলা হয়। অর্থাৎ ধোঁয়া + কুয়াশা = ধোঁয়াশা বা Smoke + Fog = Smog। শিল্প-কারখানা এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া মূলত কুয়াশার সূক্ষ্ম জলকণাকে আকর্ষণ করে। ফলে ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলেমিশে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। যে সব শহরে ও নগরে শিল্প কারখানা ও যানবাহন বেশি, সে সব শহরে ও নগরে ধোঁয়াশা বেশি দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে শহরেরর ও নগরের দূষণের অন্যতম নির্দেশক বা উদাহরণ হল ধোঁয়াশা। [সংকলিত] [মো: শাহীন আলম]

Add a Comment

Your email address will not be published.