কৃষি বিকাশের চিন্তাধারা | Explanation of Origin of Agriculture

কৃষির সূচনা ও বিকাশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা মতের জন্ম দিয়ে। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর কোন ভৌগোলিক স্থানে এবং কোন প্রেক্ষিতে কৃষির সূচনা ও বিকাশ হয়েছে এ নিয়ে বহু তত্ত্ব বা চিন্তাধারাও সৃষ্টি হয়েছে। নিন্মে এরূপ কতিপয় তত্ত্ব বা চিন্তাধারা সংক্ষেপে উল্লেখ করে কৃষি বিকাশের ধারণা তুলে ধরা হল।

১. পোটামিক চিন্তাধারা: পোটামিক [Potomic] বলতে দু’টি নদীর মধ্যবর্তী সমভূমি এলাকাকে বুঝায়। পোটামিক চিন্তাধারা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী প্লাবন সমভূমিতে আদি কৃষির সূচনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী এ প্লাবন সমভূমিটি অর্ধবৃত্তাকার রূপে ফোনেশিয়া এলাকা, যা ইসরাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পোটামিক চিন্তাধারার মূল কথা হল, স্থানীয়ভাবে শিকারের পশু সংকট দেখা দেয়। তাই মানুষকে খাদ্য সংগ্রহে সৃজনশীল হতে হয়েছিল। তাছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন আসায় মানুষজনকে অনুকূল পরিবেশের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় সরে যেতে হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, আজকের মধ্যপ্রাচ্যের টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী প্লাবন সমভূমি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় যে শুষ্ক পরিবেশ, পূর্বে কোন এক সময়ে তা বজায় ছিল না। এখানে কৃষির জন্য সবিশেষ অনুকূল পরিবেশ বজায় ছিল। আর এ কারণে আজকের টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী নদীবিধৌত অর্ধচন্দ্রাকৃতিক এ অঞ্চলকে কৃষির সূতিকাগার বলে চিহ্নিত করা হয়।

২. মরূদ্যান চিন্তাধারা [১৯৩৬]: গড্ডেন চাইল্ড হলেন আদি কৃষির সূচনা সম্পর্কিত মরূদ্যান চিন্তাধারার প্রস্তাবক। গড্ডেন মরু ভূমির সুপেয় পানিকে ঘিরে গড়ে উঠা বসতির লোকজনই কৃষির সূচনা ঘটিয়েছিল বলে প্রস্তাব করেন।

৩. কার্ল-ও-সাওয়ার চিন্তাধারা [১৯৫২]: কার্ল-ও-সাওয়ার চিন্তাধারা অনুযায়ী, কৃষির আদি সূচনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সাওয়ারের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উষ্ণতা ও উচ্চ বৃষ্টিপাত কৃষি সূচনা হওয়ার সবিশেষ উপযোগী পরিবেশ। এ সম্পর্কে তাঁর আরও মত হল, সচ্ছল জনগোষ্ঠীই অবসর সময়কে কাজে লাগাতে গিয়ে কৃষির সূচনা করেছে। সচেতন দৃষ্টিভঙ্গী সম্পন্ন জনগোষ্ঠীই অরণ্যবেষ্টিত আর্দ্রপ্রধান এলাকায় প্রকৃতির এই খেয়ালকে অনুধাবন করেছে। আর্দ্রপ্রধান এলাকার লোকজন জলাশয়ের নিকটবর্তী ছিল, যা তাদেরকে খাদ্য হিসেবে মাছ গ্রহণ করতে শিখিয়েছে। এ জলাশয়ই প্রয়োজনীয় সেচকে কৃষি কাজের জন্য সহজ করে দিয়েছিল। উল্লেখিত এ নিয়ামকগুলোর সম্মিলিত উপস্থিতিই কার্ল-ও-সাওয়ারকে কৃষির আদি সূচনা সম্পর্কিত এ চিন্তাধারা উপস্থাপনে সাহায্য করেছে।  

৪. আবর্জনাভিত্তিক চিন্তাধারা [১৯৫৪]: অ্যাডওয়ার্ড অ্যান্ডারসন হলেন কৃষির আদি সূচনা সম্পর্কিত আবর্জনাভিত্তিক চিন্তাধারার প্রস্তাবক। তাঁর মতে, মধ্য আমেরিকার মানুষদের আবাসস্থলের বাহিরে ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট ফলমূলের স্তুপের মধ্যে গজিয়ে উঠা প্রাণ থেকে আদি কৃষির সূচনা হয়েছে।

৫. চ্যাং চিন্তাধারা [১৯৭০]: কিয়াং চি চ্যাং হলেন কৃষির আদি সূচনা সম্পর্কিত এ চিন্তাধারার প্রস্তাবক। চ্যাং-এর মতে, জলাশয়ভিত্তিক জেলে জনগোষ্ঠীই আদি কৃষির সূচনা করে। [সংকলিত]


সহায়িকা: বাকী, আবদুল, ভুবনকোষ, ২০১৩, সুজনেষু প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।


[সংকলক: মো. শাহীন আলম]


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *