গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া | The Greenhouse Effect

গ্রিন হাউস [Green House]: তাপ ধরে রেখে শাক-সবজি ও ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য তৈরি কাঁচের ঘরকে গ্রিন হাউস (green house) বলে। অর্থাৎ শীতপ্রধান দেশসমূহে বা অঞ্চলে শাক-সবজি ও ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য কাঁচ ব্যবহার করে এক প্রকারের ঘর (house) তৈরি করা হয়। এ ঘরের প্রধান কাজ হল তাপ ধরে রেখে ঘরের মধ্যে শাক-সবজি ও ফুল-ফল উৎপাদনের উপযোগী করে রাখা।

গ্রিন হাউস গ্যাস [Green House Gas]: যে সব গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী, সে সব গ্যাসকে গ্রিন হাউস গ্যাস (green house gas) বলে। উদাহরণস্বরূপ- কার্বনডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ওজন (O3), বিভিন্ন প্রকারের অ্যারোসল কণা প্রভৃতি। মূলত এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলের নিচের অংশে গ্রিন হাউসের মত করে তাপ ধরে রাখতে পারে বলেই এদেরকে গ্রিন হাউস গ্যাস বলা হয়। তবে এসব গ্যাসের মধ্যে কার্বনডাইঅক্সাইডের ভূমিকা তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি।

গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া

চিত্র: গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া (কাল্পনিক চিত্র)। 

গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া [The Greenhouse Effect]: ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে সুইডেনের প্রখ্যাত রসায়নবিদ সোভানতে আরহেনিয়াস  [Svante Arrhenius] শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস এবং পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের গ্যাসের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পান। আর এ মিলটি হল- উভয়ই কিছুটা তাপ ধরে রাখতে পারে। আরহেনিয়াস এ মিল খুঁজে পেয়ে সর্বপ্রথম বায়ুমন্ডলের গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। পৃথিবীতে মানুষের নানাবিধ কাজের ফলে বায়ুমন্ডলে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস নি:সৃত হয়। যেমন- কল-কারখানা, যানবাহন প্রভৃতি থেকে কার্বনডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজন, বিভিন্ন প্রকারের অ্যারোসল কণা প্রভৃতি বায়ুমন্ডলে মিশ্রিত হচ্ছে। এসব গ্যাস বায়ুমন্ডলে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক তাপ ধরে রাখছে। যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বা উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের এ প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া (greenhouse effect) বলে। এ গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর পরিবেশের (environment) ভারসাম্য বিনষ্ট হতে চলেছে। পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীতে দেখা দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের (climate change) বিরূপ প্রভাব।

হটহাউস প্রতিক্রিয়া [Hothouse Effect]: মানুষের নানাবিধ কাজের ফলে কল-কারখানা, যানবাহন প্রভৃতি থেকে কার্বনডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজন প্রভৃতি গ্রিন হাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের প্রক্রিয়াকে অন্য অর্থে হটহাউস প্রতিক্রিয়াও (hothouse effect) বলা হয়। অর্থাৎ গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়ার অপর নামই হল হটহাউস প্রতিক্রিয়া।

মানব-সৃষ্ট গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া [Men made Green House Effect]: মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রিন হাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের প্রক্রিয়াকে মানব-সৃষ্ট গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া [men made green house effect) বলা হয়। অর্থাৎ মানুষের বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড; যেমন – শিল্প-কারখানা, মটরযান প্রভৃতি থেকে নির্গত কার্বনডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, বিভিন্ন প্রকারের অ্যারোসল কণা প্রভৃতি গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ প্রতিনিয়ত বায়ুমণ্ডলে মিশ্রিত হয়। মিশ্রিত এ গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা ধরে রাখে। যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। আর এরূপ পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে মানব-সৃষ্ট গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া বলে। অনেকে আবার একে Anthropogenic Green House Effect বলে থাকেন। [মো: শাহীন আলম]


সহায়িকা:
১. বাকী, আবদুল, ভুবনকোষ, ২০১৩, সুজনেষু প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।
২. The Greenhouse Effect


 

Add a Comment

Your email address will not be published.