চলক ও এর প্রকারভেদ | Variable & Its Classification – Statistics

চলক [Variable]: যে কোন গবেষণামূলক কাজের ক্ষেত্রে সংগৃহীত তথ্যের বৈশিষ্ট্যের যে পরিমাপ করা হয়, সে পরিমাপের একককে চলক [Variable] বলে। গবেষণায় চলক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। চলক হল এমন একটি পরিমাপগত বা গুণগত বৈশিষ্ট্য, যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হয়।

বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে চলককে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেমন –

Barry E. Anderson এর মতে, পরস্পর বিচ্ছিন্ন গুণের সেট বা সমাবেশকে চলক বলে।

P. V. Young এর মতে, যে পরিমাপ বা বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বা শ্রেণি থাকে তাকে চলক বলে।

অতএব, যে সব বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তথ্যকে সংখ্যায় পরিমাপ করা যায়, সে সব বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তথ্যকে চলক বলে। যেমন- ওজন, উচ্চতা, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর, ছাত্রসংখ্যা প্রভৃতি।

চলকের প্রকারভেদ [Classification of Variable]: যেহেতু চলক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে। সেহেতু চলকের প্রকারভেদ বিভিন্ন হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে চলককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন –

ক. গুণবাচক চলক [Quality variable]

খ. সংখ্যাবাচক চলক [Numeric variable]

ক. গুণবাচক চলক: যে সব বৈশিষ্ট্য বা চলককে সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু গুণবাচক তথ্যের প্রতিনিধিত্ব করে, সেগুলোকে গুণবাচক চলক বলে। যেমন – বুদ্ধি, আবেগ, মনোভাব, পেশা প্রভৃতি।

গুণবাচক চলককে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন –

ক.১) বিচ্ছিন্ন চলক [Dissociated variable]

ক.২) অবিচ্ছিন্ন চলক [Continuous variable]

ক.১) বিচ্ছিন্ন চলক: যে সব চলক প্রকৃতপক্ষে অবিভাজ্য অর্থাৎ ভেঙে পরিমাপ করা যায় না, তাদেরকে বিচ্ছিন্ন চলক বলে। যেমন – পরিবারের লোক সংখ্যা, কলেজের সংখ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, ছাত্র সংখ্যা প্রভৃতি।

ক.২) অবিচ্ছিন্ন চলক: যে সব পরিসীমার মধ্যে যে কোন সংখ্যা মান গ্রহণ করতে পারে, তাকে অবিচ্ছিন্ন চলক বলে। যেমন – আয়, ব্যয়, বয়স, জন্মহার, উৎপাদন প্রভৃতিকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পরিমাপ করা যায়।

খ. সংখ্যাবাচক চলক: যে সব চলক সংখ্যাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের সংখ্যাবাচক চলক বলে। যেমন – উচ্চতা, আয়, পরীক্ষার নম্বর প্রভৃতি।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *