ঠাণ্ডা লড়াই | Cold War

ঠাণ্ডা লড়াই [Cold War] বলতে সাধারণত যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে দুইটি পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান করে একে অপরকে কাবু বা ক্ষতি করার চেষ্টাকে বুঝায়। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তরকালে পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলো ২টি বৃহৎ শক্তিতে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এবং অপরটি রাশিয়ার নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কার্যত গোটা পৃথিবীর একটি শিবির পুঁজিবাদী বিশ্বে এবং অপর শিবিরটি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ‍পৃথিবীব‌্যাপী এ দুই শিবিরের উৎপাদন, অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রতিযোগিতা, দ্বন্দ্ব প্রভৃতির প্রভাব রাষ্ট্র জীবনের সর্বস্তরে পড়তে থাকে। একে অপরকে কাবু বা ক্ষতি করবার জন্য অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক, সামরিক প্রভৃতি জোট গড়ে তুলতে থাকে। মূলত: এ দুই শিবিরের অবস্থানগত পরিস্থিতি ছিল নীরব যুদ্ধের মত। যদিও বৃহৎ শক্তির এ দুই শিবির কখনও পরস্পর মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়নি। এ কারণে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যালোচনায় এ ধরনের পরিস্থিতিকে ঠাণ্ডা লড়াই (cold war) বলা হয়। আবার অনেকে এ পরিস্থিতিকে স্নায়ুযুদ্ধ (war of nerves) বলে থাকেন। তবে সাম্প্রতিককালে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়। পূর্ব ইউরোপের অনেক রাষ্ট্র থেকে সমাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে যায়। যার ফলে পৃথিবীব্যাপী সৃষ্ট ঠাণ্ডা লড়াইয়ের অবসান হয়। তবে এখনও মাঝে মাঝে বৃহৎ অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির রাষ্ট্র; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কোন কোন বিষয় নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াই চলতে থাকতে দেখা যায়। [সংকলিত] [মো: শাহীন আলম]   

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *