নগরীয় ভূমি ব্যবহার মডেল: সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্ব

সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্বটি (concentric zone theory) ই. ডাবলিউ, বার্জেস [Ernest Watson Burgess] প্রদান করেন। ভূমি ব্যবহার মডেল সম্পর্কিত এ তত্ত্বটিকে নগরীয় ভূমি ব্যবহারের প্রথম মডেল বলা হয়ে থাকে। বার্জেস ১৯২৫ সালে এ তত্ত্বটি প্রদান করেন। এ তত্ত্বটি বার্জেস মডেল [Burgess Model] নামেও সুপরিচিত। আমেরিকার শিকাগো নগরীর ভূমি ব্যবহারের উপাত্তের উপর ভিত্তি করে সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্ব বা মডেলটি প্রদান করা হয়েছে।

সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্ব বা মডেলের মূল বক্তব্য: একটি নগর গড়ে উঠার বিন্যাস ধারা বা কর্ম-কার্মিকতার বিন্যাস ধারা সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্বে বা মডেলে সনাক্ত করে থাকে। এ তত্ত্বটির মূল বক্তব্য হল:

           ১. সংশ্লিষ্ট নগরের সকল বাসিন্দার সমানভাবে ক্রয় ক্ষমতা থাকে না। তাছাড়া ভূমি ব্যবহারে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র বিরাজ করে। যার ফলে, নগরের কেন্দ্রকে প্রতিফলিত করে যোগাযোগের পথ ধরে ভূমির ব্যবহার বৃত্তাকারে গড়ে উঠে।

           ২. সংশ্লিষ্ট নগরের কেন্দ্রে প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র (central business district or CBD) গড়ে উঠবে। এরপরেই শিল্প কারখানা থাকবে। এসব শিল্প কারখানার কাছাকাছি শ্রমিকরা বসবাস করবে। এভাবেই নগরীর সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয়ভিত্তিক ভূমির ব্যবহার গড়ে উঠবে।

সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্ব বা মডেলের বলয় বা জোন [Zone]: এ বৃত্তবলয় তত্ত্ব বা মডেলে ৫টি বলয় বা জোনের উল্লেখ পাওয়া যায়। নগরের কেন্দ্র থেকে বাহিরের দিকে এ বলয় বা জোনগুলো হল:

            ১. কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক বলয় (central business district or CBD);

            ২. পরিবৃত্তি বা শিল্প কারখানা বলয় (factory zone);

            ৩. শ্রমিকদের আবাসিক বলয় (transition and working class zone);

            ৪. উন্নত আবাসিক বলয় (residential zone); এবং

            ৫. গতায়ত বলয় (commuter zone)।

চিত্র: সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্ব বা মডেল।

সমকেন্দ্রিক বৃত্তবলয় তত্ত্ব বা মডেলের সমালোচনা: এ তত্ত্ব বা মডেলটি নিয়ে অনেক সমসাময়িক নগর ভূগোলবিদ সমলোচনা করেছেন। উল্লেখ্যযোগ্য সমালোচনাগুলো হল:

       প্রথমত, এ মডেলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিরের নগরগুলোর সাথে ভালভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতের অধীনে নগর উন্নত হয়েছিল। বিশ্বে নানা দেশে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পরিবহন এবং তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের মত পরিবর্তনগুলোর কারণে নগরগুলোকে স্পষ্ট বলয় (zone) দিয়ে দেখানো যায় না।

       দ্বিতীয়ত, এ মডেলটি অদ্ভুত আমেরিকান ভূগোল বর্ণনা করে, যেখানে নগরের অভ্যন্তরে দরিদ্র এবং শহরতলীতে ধনী। কিন্তু অন্য নগরে এ মডেলটির বিপরীত আদর্শ বা নিয়ম দেখা যায়।

    তৃতীয়ত, এটি একটি আইসোট্রপিক (isotropic) পরিকল্পনা মাত্র; এমনকি একটি অপরিবর্তিত ভূমির চিত্র। যা সাধারণত ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

    চতুর্থত, এ মডেলটি বহু-কেন্দ্রীয় (polycentric) নগরের জন্য উপযুক্ত নয়, উদাহরণস্বরূপ- Stoke-on-Trent। [সংকলিত] 


সংকলক: [মো. শাহীন আলম]


Concentric Zone Theory


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *