নৃগোষ্ঠীর ধারণা | Idea Of Ethnic Group

নৃগোষ্ঠী বলতে মানবজাতির এমন একটি উপবিভাগকে বোঝায়, যারা কি না বাঙালি জাতি থেকে কিছুটা ভিন্ন এবং তারা নিজেরা দৈহিক দিক থেকে অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকে। নৃগোষ্ঠীর সর্বাধিক স্বীকৃত ইংরেজি পরিভাষা হলো ‘race’ (রেস)। বাঙালি, ইংরেজ, জাপানি ইত্যাদি এরা হলো জাতি। অপরদিকে মঙ্গোলয়েড, নিগ্রোয়েড, ইত্যাদি হলো নৃগোষ্ঠী।

এ কারণেই বলা যায়, জাতি গঠনে যেসব উপাদান দায়ী, তার মধ্যে নৃগোষ্ঠী অন্যতম। জাতি ও নৃগোষ্ঠী আলাদা দু’টি বিষয়। নৃগোষ্ঠী জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। নৃগোষ্ঠী হলো একই বংশজাত মানবগোষ্ঠী তাদের মধ্যে দৈহিক আকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে বেশকিছু মিল পরিলক্ষিত হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী প্রদত্ত নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে বিভিন্ন সংজ্ঞা নিচে উল্লেখ করা হলো:

Introduction to Sociology গ্রন্থে নৃগোষ্ঠী বা Race – এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে -“A race is a human population that is believed to be distinct in some way from other human based on real or imagined physical difference” (অর্থাৎ একটি নৃগোষ্ঠী হলো একটি মানব জনগোষ্ঠী যারা বিশ্বাস করে যে, তারা অন্যান্য মানবগোষ্ঠী থেকে বাস্তবিক অথবা কল্পিত শারীরিক ভিন্নতার ভিত্তিতে স্বতন্ত্র।)

সমাজবিজ্ঞানী Schaefer তার ‘Sociology’ গ্রন্থে নৃগোষ্ঠী এর সংজ্ঞায় বলেন, নৃগোষ্ঠী হলো একটি দল, যারা অন্যদের থেকে আবশ্যিক শারীরিক ভিন্নতার জন্য আলাদা।

Len F. Haney Leopez নৃগোষ্ঠী এর সংজ্ঞায় বলেন, যখন কিছু মানুষ ‘নৃগোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহার করে তারা একটি জৈবিক অর্থ সংযুক্ত করে তথাপি অন্যরা ‘নৃগোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহার করে সামাজিকভাবে নির্মিত ধারণা হিসেবে। এটি স্পষ্ট যে, যদিও নৃগোষ্ঠীর কোনো জৈবিক অর্থ নেই, এর রয়েছে সামাজিক অর্থ, যা বৈধভাবে নির্মিত।

সমাজবিজ্ঞানী Jhon M. Shepard তার ‘Sociology’ গ্রন্থে নৃগোষ্ঠী এর সংজ্ঞায় বলেন – ‘নৃগোষ্ঠী হলো একটি পৃথক জনসংখ্যা শ্রেণি, যারা নির্দিষ্ট সংখ্যক দৈহিক বৈশিষ্ট্য জৈবিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে তা ধারণ করে।’

E. B Tylor এর Dictionary of Anthropology – তে নৃগোষ্ঠী এর সংজ্ঞায় বলেন, নৃগোষ্ঠী হলো মানবজাতির একটি প্রধান বিভাগ, যাদের স্বাতন্ত্র্যসূচক এবং বংশগতিতে বহনযোগী দৈহিক বৈশিষ্ট্যাবলি রয়েছে।

সুতরাং, নৃগোষ্ঠী হলো এমন একটি নির্দিষ্ট মানব সম্প্রদায়, যারা বংশপরম্পরায় কিছু সাধারণ ও অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। [ইশরাত জাহান মিম]


সহায়িকা: সরকার, ড. মোহাম্মদ আবদুল মালেক, সমাজ বিজ্ঞান, লেকচার পাবলিকেশন লি., ঢাকা, পৃষ্ঠা ১০৭ – ১০৮।


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *