পটুয়াখালীর পুরাকীর্তি: দশমিনার মুন্সি আমিরুল্লার মসজিদ

অবস্থান: পটুয়াখালী জেলাধীন দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত দক্ষিণ আদমপুর গ্রামে মুন্সি আমিরুল্লার মসজিদ (mosque) অবস্থিত। পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দশমিনা উপজেলা সদর। দশমিনা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে আদমপুর বাজার অবস্থিত। এ বাজার থেকে আঁকা বাঁকা সড়ক পথে প্রায় ২ কিলোমিটার এগিয়ে গেলে মুন্সি বাড়িতে প্রাচীন এ মসজিদটি দেখা যায়।


মানচিত্র:  মুন্সি আমিরুল্লার মসজিদের অবস্থান।

ঐতিহাসিক পটভূমি: জানা যায় যে, ১৯ শতাব্দীতে জনৈক মুন্সি আমিরুল্লাহ দশমিনার বহরমপুরের আদমপুর নামক গ্রামে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মুন্সি আমিরুল্লাহর ‍পূর্বপুরুষ ফরিদপুর থেকে এসে বরিশালের চাখারে বসবাস করত। পরবর্তীতে এ পরিবারটি পটুয়াখালী জেলাধীন দশমিনার বহরমপুরের আদমপুর বসতি স্থাপন করে।

চিত্র: মসজিদের অভ্যন্তর।

স্থাপত্যিক বিবরণ: মসজিদটি বর্গাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মাণ করা হয় । ৭.৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৫ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণে ইট ও চুন-সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ১ মিটার পুরু। এ মসজিদের উপরে ১টি গম্বুজ ও চারকোণে ৪টি মিনার (minaret) রয়েছে । গম্বুজ ও মিনারের উপরে অলংকৃত শীর্ষ (finial) রয়েছে। গম্বুজের আকৃতি অর্ধ গোলাকার  (semi circular)। গম্বুজটির পাদদেশের চারদিকে বেষ্টন করে সাপের ফণার (snake hood) মত অলংকরণ রয়েছে। মিনারের বুরুজ বা স্তম্ভগুলো অষ্টভূজাকার (octagonal)।  প্রতিটি বুরুজের উপর ১টি করে খোলা ছত্রীর উপর ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে। এ মসজিদটির বহির্দেয়াল জুড়ে বিভিন্ন নকশা দিয়ে সজ্জিত রয়েছে। এ মসজিদটির দক্ষিণ, উত্তর ও পূর্ব দেয়ালে ১টি করে প্রবেশ পথ রয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরের পশ্চিম দেয়ালে ১টি মিহরাব, পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ২টি করে কুলঙ্গি (niche) রয়েছে। মসজিদের সামনে ১টি খোলা চত্বর রয়েছে। মুসলিম স্থাপত্যিক এ নিদর্শনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ১টি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। বর্তমানে এ মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের  তালিকাভূক্ত ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে ।


তথ্যসূত্র:
১। বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি পটুয়াখালী, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, (২০১৪),  পৃষ্ঠা ৫৮-৫৯।
২। হোসেন, মো: মোশারফ, উৎসের সন্ধানে চন্দ্রদ্বীপ বাকলা বরিশাল, পড়ুয়া, ঢাকা, (২০১০), পৃষ্ঠা ৮১-৮২।
৩। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।


লেখক: মো. শাহীন আলম


 

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *