পরিসংখ্যান: প্রাথমিক ধারণা, উদ্দেশ্য, বৈশিষ্ট্য ও উপাত্ত

পরিসংখ্যানের ধারণা: পরিসংখ্যান হল ব্যবহারিক বা ফলিত গণিতের একটি শাখা, যা সংখ্যা বা গণনাসূচক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে প্রয়োগ করা হয়। পরিসংখ্যানবিদগণ পরিসংখ্যানকে একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক এবং তথ্য বিষয়ক বিজ্ঞান বলে সংজ্ঞায়িত করেন। সাধারণত পরিসংখ্যান বলতে কোন ঘটনা বা তথ্য বা বিষয়ের সংখ্যা বা গণনাবাচক পরিমাপকে বোঝায়। যেমন- জনসংখ্যা বিষয়ক জন্ম, মৃত্যু, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যসমূহের সংখ্যা বা গণনার তথ্য দিয়ে এদের পরিসংখ্যান বোঝান হয়ে থাকে। এরকম কোন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা বিষয়ের সংখ্যাসূচককে ঐ বৈশিষ্ট্য বা বিষয়ের পরিসংখ্যান বলে। আবার পরিসংখ্যান বলতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোন বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ, সংঘবদ্ধকরণ, উপস্থাপন ও বিশ্লেষণও বোঝায়।

পরিসংখ্যান ব্যবহারের উদ্দেশ্য: সাধারণত পরিসংখ্যানের সাহায্যে সংখ্যা বিশ্লেষণ করে কোন বিষয় বা ঘটনার তথ্য উৎঘাটন করা হয়। পরিসংখ্যানের মূল প্রতিপাদ্য হল অনিশ্চিত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতি ও পদ্ধতি প্রণয়ন কিংবা কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংখ্যাভিত্তিক গবেষণা। পরিসংখ্যান বিপুল পরিমাণের তথ্যকে সংক্ষেপে সহজভাবে উপস্থাপন করে এবং একাধিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে তুলনার কাজে সহযোগিতা করে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সাহায্য করে। যেমন- পরিসংখ্যানে আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, মজুরি, আদমশুমারি, কৃষিশুমারি, জনসংখ্যা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রের সম্পর্ক, আয়-ব্যয়, জনশক্তি এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাংক, বীমা, শিল্প প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পরিসংখ্যানের উদ্দেশ্য হল কোন বিষয়ের অতীত অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সূত্র আরোপ ও প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

পরিসংখ্যানের বৈশিষ্ট্য: কেবল একটি সংখ্যা দ্বারা প্রকাশিত তথ্যকে পরিসংখ্যান নামে অভিহিত করা যায় না। তবে বিপুল পরিমাণের সংখ্যাভিত্তিক তথ্যকে পরিসংখ্যান নাম দেওয়া যায়। পরিসংখ্যানের উপাত্তকে সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। পরিসংখ্যানগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। উপাত্ত সংগ্রহে পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ ও গণনার প্রয়োজন হয়। উপাত্তের মধ্যে যেন বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য তার পরিমাপ ও গণনার একক যথাযথ এবং স্পষ্টভাবে নির্ণয় করতে হবে। গণনার একক তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিস্বরূপ। এককগুলো এক জাতীয় এবং এক পরিমাপের হওয়া প্রয়োজন। সাদৃশ্য না থাকলে তথ্যের তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করা যায় না।

পরিসংখ্যানের উপাত্ত: সাধারণত সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে উপাত্ত (data) বলে। পরিসংখ্যানের উপাত্ত সাধারণত দুইভাবে সংগৃহীত হয়। যেমন-

১. সরাসরি ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে; অথবা
২. অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজেদের জন্য সংগৃহীত বা ব্যবহৃত উপাত্ত থেকে।

কোন শহরের অধিবাসীদের বয়স বা আয়, কোন স্থানের দৈনিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিমাপ, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৈনিক আয় ইত্যাদি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ হল উপাত্ত।
সংগ্রহের উপর ভিত্তি করে পরিসংখ্যানের উপাত্তকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

১. অবিন্যস্ত উপাত্ত ও
২. বিন্যস্ত উপাত্ত।

১. অবিন্যস্ত উপাত্ত: সাধারণত এলোমেলোভাবে সংগৃহীত উপাত্তকে অবিন্যস্ত উপাত্ত বলে। কোন স্থানের দৈনিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কয়েকদিনে সংগ্রহ করলে, এটা প্রাথমিক অবস্থায় অবিন্যস্তভাবে সংগৃহীত উপাত্ত হবে।

২. বিন্যস্ত উপাত্ত: অবিন্যস্তভাবে সংগৃহীত উপাত্ত সুষ্ঠুভাবে উপস্থাপনের জন্য সাধারণত তাদের সুবিধাজনকভাবে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়। শ্রেণীবিন্যাসের সাহায্যে প্রাপ্ত এ উপাত্তকে বিন্যস্ত উপাত্ত বলে।

অবিন্যস্ত ও বিন্যস্ত উপাত্তের উদাহরণ: নিচে একটি উদাহরণের মাধ্যমে অবিন্যস্ত উপাত্ত ও বিন্যস্ত উপাত্ত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হল।

৫০ জন ছাত্রের বার্ষিক পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর হল:-
৭       ১৮      ৩৭      ৫৩      ২৪      ৩৯      ৪১      ২৩       ৬৪       ৬৭     ৬৮      ৫০     ৯৩
৪৩   ১১        ২৭      ৬৮       ৭২     ১৯       ১২       ২১       ১৯        ৩২      ৭৫      ৫২     ৮৪
১৫    ১১       ২৩       ১৯        ৫২    ২৯      ৯২       ৭৯      ৪৫        ৮১       ৬৩    ৩৬    ২১
৩৩  ৫৩        ৮        ৪১        ১৪    ২৬      ২৬      ৩৩      ৪৯         ৪০       ১৯

উপর্যুক্তভাবে নম্বরসমূহ হল পরিসংখ্যানে অবিন্যস্ত উপাত্ত।

১ থেকে ১০০ পর্যন্ত নম্বরকে ১০ টি শ্রেণীতে ভাগ করলে শ্রেণীগুলো হবে,
১-১০, ১১-২০, ২১-৩০, ৩১-৪০, ৪১-৫০, ৫১-৬০, ৬১-৭০, ৭১-৮০, ৮১-৯০, ৯১-১০০।

এ ৫০ জন ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রতি শ্রেণীতে কয়জন ছাত্র শ্রেণীভূক্ত নম্বর পেয়েছে, তা জানা যায়। শ্রেণীভূক্ত ছাত্রসংখ্যাকে ঘটন সংখ্যা বা গণসংখ্যা বলে।


[সংকলিত]


[Keywords: Statistics, Basic Concepts, Purposes, Features and Databases, information, data, Classified data and Unclassified data, Parisangkhaan, Parisangkhan]


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *