পর্বতের প্রতিবাত ঢাল ও অনুবাত ঢাল

প্রতিবাত ঢাল: পাহাড় বা পর্বতের যে ঢালে বায়ুপ্রবাহ আঘাত করে, সে ঢালকে প্রতিবাত ঢাল বা প্রতিবাত পার্শ্ব বলে। এ প্রতিবাত অংশে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ঊর্ধ্ব আকাশে উত্থিত হয় এবং প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলা হয়।
অনুবাত ঢাল: পাহাড় বা পর্বতের যে ঢালে বায়ুপ্রবাহ আঘাত করে, তার বিপরীত ঢালকে অনুবাত ঢাল বা অনুবাত পার্শ্ব বলে। এ অনুবাত অংশে শুষ্ক বায়ু প্রবাহের কারণে বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়ে থাকে। এ ঢালকে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- বঙ্গোপসাগর থেকে উড়ে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গারো, খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এসব পাহাড়ের দিকে বায়ুপ্রবাহ মুখী প্রতিবাত ঢালে অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি-মৌসিনরাম এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এসব পাহাড়ের বিপরীত পার্শ্বে বা অনুবাত ঢালে অবস্থিত হওয়ায় বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলের মধ্যে পড়ে, তাই শিলংয়ে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম ।
আবার, বড় শহর এলাকায় অবস্থিত সুউচ্চ ভবনসমূহের দিকে বায়ুপ্রবাহ মুখী প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এসব সুউচ্চ ভবনসমূহের বিপরীত পার্শ্বে বা অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম হতে দেখা যায়। [সংকলিত] [মো. শাহীন আলম]

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *