পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন সম্পর্কিত তথ্যের উৎস

ভূ-বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগের গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য বহুকাল ধরে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আর পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগের গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য ভূ-বিজ্ঞানীগণ এ যাবৎ নানা তথ্যের উৎস বা পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এর মধ্যে – ভূকম্পন তরঙ্গ, গুরুত্ব পরিমাণ, ধরাকৃতি জরিপ, জ্যোতি-পদার্থ, ভূচম্বকত্ব, ভূবিদ্যুৎ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগের গঠন প্রকৃতি সম্পর্কিত জানার পদ্ধতি বা তথ্যের কয়েকটি উৎস নিম্নে আলোচনা করা হলো।

ক) ভূকম্পন ভরঙ্গ : ভূতত্ত্ববিদগণ প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম তরঙ্গ ব্যবহার করে পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরের প্রকৃতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। একজন চিকিৎসক যেমন এক্স-রে ব্যবহার করে রুগীর দেহের অভ্যন্তরের অবস্থা জানতে পারেন, তেমনই ভূবিজ্ঞানীগণ প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তরঙ্গের গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে ভূ-অভ্যন্তরের তথ্য সংগ্রহ করেন। ভূত্বক থেকে ভূগর্ভের অভ্যন্তরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের কাজে কৃত্রিম শব্দের মাধ্যমে উৎপন্ন নিয়ন্ত্রিত কম্পন ব্যবহৃত হয়। এধরনের তরঙ্গ বেতার তরঙ্গ থেকে অধিক সময় স্থিতিশীল হয়ে থাকে। আবার ভয়াবহ ভূকম্পনের সময় দীর্ঘতম স্থিতিস্থাপক তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দিকে তিন ধরনের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে। যা ব্যবহার করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায় ।

খ) লাভা পরীক্ষা : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ভূ-অভ্যন্তর থেকে ম্যাগমা নামে পরিচিত গলিত শিলা জ্বালামুখ দিয়ে বা অন্য কোন ফাটলের মধ্য দিয়ে নির্গত হয়ে লাভা নামে ভূ-পৃষ্ঠে সঞ্চিত এবং শীতল হয়। লাভা গঠিত ঐ শিলা পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীগণ ভূঅভ্যন্তরের গঠন প্রকৃতি এবং গঠনকারী উপাদান সম্পর্কে জানতে পারে।

গ) চৌম্বকত্ব এবং এর ঘনত্ব পরীক্ষা : পৃথিবীর চৌম্বকত্বের বৈশিষ্ট্যে এবং এর ঘনত্বের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন প্রকৃতি এবং গঠনকারী উপাদান সম্পর্কে বিজ্ঞানীগণ অনেক নির্ভরযোগ্য তথ্য লাভ করতে পারে। [সংকলিত]

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *