প্রমাণ সময় ও সময় বলয়

প্রমাণ সময় [Standard Time]: পৃথিবীর কেন্দ্রের কৌণিক পরিমাপ ৩৬০ ডিগ্রী। এ ৩৬০ ডিগ্রী কৌণিক দূরত্ব আবর্তন করতে পৃথিবীর ২৪ ঘন্টা বা ১,৪৪০ মিনিট সময় লাগে ৷ পৃথিবী তার ১ ডিগ্রী দূরত্ব ঘোরে ৪ মিনিট সময়ে অর্থাৎ ১ ডিগ্রী দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। যে কোন দেশের অভ্যন্তরের ভিন্ন ভিন্ন দ্রাঘিমারেখার উপর মধ্যাহ্নের সূর্যের অবস্থানের সময়কে দুপুর ১২ ধরে স্থানীয় সময় নির্ধারণ করলে একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট হয়। সে জন্য প্রত্যেক দেশের একটি প্রমাণ সময় নির্ণয় করার প্রয়োজন হয়। প্রত্যেক দেশই নিজ দেশের মধ্যভাগের কোন স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করে, সে সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় (standard time) বলে। দিনের সময় গণনার জন্য প্রত্যেক দেশের একটি প্রমাণ সময় রয়েছে। অনেক বড় দেশ হলে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে। যেমন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের চারটি এবং কানাডাতে পাঁচটি প্রমাণ সময় রয়েছে। তবে গ্রিনিচের স্থানীয় সময়কে সমগ্র পৃথিবীর প্রমাণ সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘণ্টা (৬+) অগ্রবর্তী।

সময় বলয় [Time Belt]: পৃথিবীর প্রতি ১৫ ডিগ্রী দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা। আর এ কারণেই আন্তর্জাতিক সময় গণনার সুবিধার্থে প্রতি ১৫ ডিগ্রী দ্রাঘিমাভুক্ত স্থানসমূহকে এক একটি সময় বলয় হিসেবে ধরা হয়েছে। এ হিসেবে পৃথিবীর সময় বলয়ের পরিমাণ হল সর্বমোট ৩৬০ ÷ ১৫ = ২৪ টি। এরূপ হিসেবে করে ১৮৮৪ সালে পৃথিবীকে ২৪ টি সময় বলয়ে বিভক্ত করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সময় বলয়ের জন্য এক একটি প্রমাণ সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।


Standard Time & Time Belt


Add a Comment

Your email address will not be published.