বনবাসী রক্তচোষা | Emma Gray’s Forest Lizard

বনবাসী রক্তচোষা [Emma Gray’s Forest Lizard] – অনেকের কাছে বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি নামেও পরিচিত। বনবাসী রক্তচোষার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে তুলে ধরা হল:

বনবাসী রক্তচোষা

পরিবার : রক্তচোষা প্রাণি আগামিডি (Agamidae) পরিবারভূক্ত।

ইংরেজি নাম : রক্তচোষা প্রাণির ইংরেজি নাম হল এমা গ্রে’স ফরেস্ট লিজার্ড/ ফরেস্ট ক্রেস্টেড লিজার্ড (Emma Gray’s Forest Lizard / Forest Crested Lizard)।

বৈজ্ঞানিক নাম : রক্তচোষা প্রাণির বৈজ্ঞানিক নাম হল কালোটিস এমা (calotes emma)।

বিবরণ : বনবাসী রক্তচোষা প্রাণির চোখের উপরে কাঁটা রয়েছে। চোখের উপরের কাঁটা ছাড়া রক্তচোষা প্রাণি দেখতে প্রায় গিরগিটির মত। এদের দেহের উপরটা বাদামি বর্ণের, তবে তাতে প্রায়শ গাঢ় বাদামি দাগ বা ফোঁটাও থাকে। রক্তচোষা প্রাণির দৈর্ঘ্য ৪১ – ৪২ সেন্টিমিটার (সে.মি.), এর মধ্যে দেহ ভাগের দৈর্ঘ্য ১২ সে.মি. এবং লেজের অংশের দৈর্ঘ্য ২৯ – ৩০ সে.মি.। এদের দেহের নিচের অংশ সাদাটে বর্ণের। এ রক্তচোষা প্রাণির চোখের ভিতর থেকে গাঢ় ১টি রেখা বাহির দিকে বেরিয়ে এসেছে। উত্তেজিত হলে রক্তচোষা প্রাণির মাথা এবং গলা কালো হয়ে যায়। এদের ঘাড় এবং পিঠের ঝুঁটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

স্বভাব : রক্তচোষা প্রাণিরা সাধারণত একাকী বা জোড়ায় থাকে। এরা স্বভাবে দিবাচর এবং বৃক্ষচারী। 

খাবার : রক্তচোষা প্রাণিরা সাধারণত কীটপতঙ্গভোজী।

আবাসন : রক্তচোষা প্রাণিরা  চিরসবুজ পাহাড়ি বনের ঝোপঝাড় ও বনের প্রান্তে থাকতে পছন্দ করে।

বংশবৃদ্ধি ও অবস্থা : রক্তচোষা প্রাণিরা এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরে প্রজনন করে। এদের স্ত্রী ১২টি ডিম পাড়ে। বাংলাদেশের সর্বত্র কম বেশি এদেরকে দেখা যায়। তবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের বেশি দেখা যায়। [সংকলিত]


তথ্য সূত্র : বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী, ২০১৫, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৬৪।


আলোকচিত্র সূত্র: Garden Lizard


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *