বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাচীন স্থাপত্যিক ঐতিহ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আবহবিকারের প্রভাব

সুপ্রাচীন কাল থেকে আবহাওয়া (weather) ও জলবায়ুর (climate) উপর নির্ভর করে যে কোন ভৌগোলিক স্থানে মানুষ তার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলে। তবে মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সাথে সাথে আবহাওয়া ও জলবায়ু তাদের সাবেক রূপ পরিবর্তন করতে চলেছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে এর বিরূপ প্রভাবও মানুষের উপর ইতোমধ্যে নানাভাবে পড়তে শুরু করেছে। তাই আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রভাব হল সাম্প্রতিককালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে তাল রেখে বাংলাদেশের জলবায়ুও পরিবর্তিত হয়েছে। জানা যায় যে, আজ থেকে ১৮ হাজার বছর আগে বাংলাদেশসহ তৎসংলগ্ন এলাকার জলবায়ু ছিল শুষ্ক মহাদেশীয় জলবায়ু। পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান সময়ে তা উষ্ণ আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা প্রভাবের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। সাংস্কৃতিক পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল প্রাচীন স্থাপত্যিক ঐতিহ্য বা পুরাকীর্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমগ্র বাংলাদেশের প্রাচীন বা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যিক ঐতিহ্যসমূহ কম-বেশি প্রভাবিত হতে চলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপত্যিক ঐতিহ্যসমূহ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে চলেছে। আর এ প্রবন্ধটিতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের প্রেক্ষিতে প্রাচীন স্থাপত্যিক ঐতিহ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আবহবিকারের (weathering) ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হল।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক বিষয়। তবে এর প্রভাবের তারতম্য স্থানভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মত সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অন্য যে কোন দেশের তুলনায় অনেক প্রকট হতে পারে। আবহবিকার (weathering) প্রাচীন স্থাপত্যিক ঐতিহ্যের উপরে ধীরে ধীরে চলন্ত একটি প্রক্রিয়া হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অব্যাহত ধারায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলাতে তা হয়তো প্রকট হতে চলেছে। প্রাচীন স্থাপত্যিক ঐতিহ্যের সাথে সাথে আধুনিক স্থাপত্যিক ঐতিহ্যসমূহও হয়তো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আবহবিকারের প্রভাব মোকাবেলা করছে। মাঠপর্যায়ে ব্যাপক জরিপ ও আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলার এসব স্থাপত্যিক ঐতিহ্যসমূহের উপরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আবহবিকারের প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারব। আমরা অনেকেই জানি, উন্নত ও অনুন্নত দেশের মানুষের নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে নি:সরিত কার্বন জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাবের জন্য প্রধানত দায়ী। মানুষের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, হয়তো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করা যাবে না। যা হয়তো কখনোই খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হতে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের অব্যাহত ধারার সাথে অভিযোজিত (adapted) হওয়া এবং প্রভাব মোকাবেলার জন্য পূর্ব-প্রস্তুতি (pre-preparedness) গ্রহণ করা। [মো. শাহীন আলম]


Impact of Weathering due to Climate Change on Ancient Architectural Heritages in the Coastal Area of Bangladesh


One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *