মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি | Soil Moisture

মাটির আর্দ্রতা [Soil Moisture] বলতে মাটিতে জমে থাকা জল বা পানির অস্তিত্বকে বুঝায়। অর্থাৎ বৃষ্টির পানি কিংবা পুকুর, খাল ও নদ-নদীর পানি অনুপ্রবেশের (percolation) মাধ‌্যমে মাটি কণার (particles) ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে। মাটি কণার ফাঁকে ফাঁকে পানির এরূপ উপস্থিতিকে মাটির আর্দ্রতা বলা হয়।

মাটির আর্দ্রতা

মাটি কণার (বেলে, পলি ও এটেল প্রভৃতি) বৈশিষ্ট‌্য, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত কিংবা জলাশয়ের (পুকুর, খাল ও নদ-নদী প্রভৃতি) উপরে মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ নির্ভর করে। আবার এ মাটির আর্দ্রতার উপরে নির্ভর করে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড; যেমন- চাষাবাদ। চাষাবাদসহ বিভিন্ন প্রকারের উন্নয়ন কাজ পরিচালনার জন‌্য যে কোন স্থানের মাটির আর্দ্রতা জানার প্রয়োজন। আধুনিককালে উন্নত প্রযুক্তি ব‌্যবহার করে মাটির আর্দ্রতা নির্ণয় করা হয়। তবে এ প্রযুক্তি অনেকের জন‌্য সহজলভ‌্য নয়। তাই মাটির আর্দ্রতা নির্ণয়ের কতিপয় সহজ পদ্ধতি বা উপায় নিম্নে তুলে ধরা হয়েছে।

মাটির আর্দ্রতার নির্ণয়ের কতিপয় সহজ পদ্ধতি বা উপায়:
ক) অনুভব পদ্ধতি [Feeling Method]: এ পদ্ধতিতে মাটি হাতে নিয়ে মুষ্ঠিবদ্ধ করে জোড়ে চাপ দিতে হয়।

১. চাপ দেয়া মাটি থেকে পানি বের হলে, মাটি এখনও আর্দ্র বা ভেজা বুঝতে হবে। 

২. চাপ দেয়া মাটি থেকে পানি বের না হলে, তা চাকা বা বলের আকার ধারণ করে। মাটির চাকা কোমর সমান উচ্চতা থেকে ফেললে যদি ভেঙে না যায়; তখন মাটি আর্দ্র বা ভেজা বুঝতে হবে। 

৩. মাটির বলটি যদি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়; তখন মাটি আর্দ্র বা ভেজা কম কিংবা শুকনো বুঝতে হবে। 

৪. মাটি যদি চাকা বা বল কোনটির আকারই ধারণ না করে, তাহলে বৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নতুবা মাটির আদ্রর্তার জন্য সেচ দিয়ে আর্দ্রতা বা ভেজা ভাব আনতে হবে।

মাটির আদ্রর্তা পরীক্ষা

চিত্র: ওজন পদ্ধতিতে [Weigh/Gravimetric Method] মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা।

খ) ওজন পদ্ধতি [Weigh/Gravimetric Method]: এ পদ্ধতিতে নমুনা মাটিকে নিম্নে উল্লেখিত ধাপে পরীক্ষা করে আর্দ্রতা নির্ণয় করা হয়।

১. প্রথমে নমুনা (sample) মাটি ফয়েল পেপারে [Foil Paper] নিয়ে বৈদ‌্যুতিক নিক্তির (electric balance) উপরে রেখে ওজন নির্ণয় করি। উপরের চিত্র অনুযায়ী মাটির ওজন পাওয়া গেল ১৭০ গ্রাম।

২. এবার ১৭০ গ্রাম ওজনের এ নমুনা মাটি ওভেনের (oven) মধ‌্যে রাখি। ১০৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ২২১ ডিগ্রী ফারেনাইট তাপমাত্রায় ২৪ ঘণ্টা ওভেনের মধ‌্যে রেখে গরম করি।

৩. ২৪ ঘণ্টা পরে ওভেন (oven) থেকে মাটি বের করে আনি। আবার বৈদ‌্যুতিক নিক্তি (electric balance) উপরে রেখে ওজন নির্ণয় করি। উপরের চিত্র অনুযায়ী এবার মাটির ওজন পাওয়া গেল ১৪০ গ্রাম।

৪. সূতরাং নমুনা (sample) মাটিতে পানি বা আদ্রর্তার পরিমাণ ছিল

= ১৭০ – ১৪০ = ৩০ ÷ ১৪০/১০০ = ২১.৪১%। 

এছাড়া, বর্তমান বাজারে Soil Moisture Meter নামক বিভিন্ন ব্রান্ডের মাটির আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্রও পাওয়া যায়। 


সহায়িকা: ১. https://www.wikihow.com/Measure-Soil-Moisture

২. http://www.civilengineeringforum.me/soil-moisture-content/


লেখক: মো: শাহীন আলম


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *