রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি | কুষ্টিয়া

রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি

 অবস্থান | Location

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত ‘কাচারী বাড়ি (তহশিল খানা)’ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামে অবস্থিত। শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠি বাড়ি থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৫৫০ মিটার এগিয়ে গেলে একটি তেমাথা সংলগ্ন পাকা রাস্তার উত্তর পাশে লাগোয়া বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত দি মহর্ষী চ্যারিটেবল ডিসপেন্সারীর অবস্থান। এ ডিসপেন্সারী থেকে ১৮০ মিটার পূর্ব দিকে এগিয়ে গেলে রাস্তার দক্ষিণ পাশে এ কাচারী বাড়িটি দেখা যায়। পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত এ কাচারী বাড়িটির ভূ-স্থানাঙ্ক (geo-coordinate) হল 23°55’21.4″N 89°13’28.6″E (23.922621, 89.224603)।

স্থাপত‌্যিক বিবরণ | Architectural Description

বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত ‘কাচারী বাড়ি (তহশিল খানা)’টি আয়তাকার পরিকল্পনায় নির্মিত একটি স্থাপনা। দক্ষিণমুখী করে নির্মিত দুই তলাবিশিষ্ট এ স্থাপনাটি দেয়ালসহ দৈর্ঘ্য ১৯.৫০ মিটার ও প্রস্থ ৯ মিটার। স্থাপনার দেয়ালগুলো প্রায় ১ মিটার চওড়া। এটির নিচ তলায় ৪টি কক্ষ এবং সামনে লম্বা ১টি বারান্দা (a long front porch) রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে একাধিক প্রবেশপথ ও জানালা রয়েছে। প্রবেশপথ ও জানালাগুলোতে সেগমেন্টাল খিলানের (segmental arch) প্রতিফলন দেখা যায়। নিচ তলার বারান্দা (long front porch) এর সামনে সমদূরত্বে স্থাপিত স্তম্ভের সারি (colonnade) রয়েছে। জোড়ায় জোড়ায় স্থাপিত স্তম্ভগুলোতে টুস্কান স্তম্ভের (tuscan column) প্রতিফলন দেখা যায়। নিচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলার উঠার জন্য পশ্চিম পাশের দেয়ালের সাথে লাগোয়া বাহিরের দিকে ১টি সিঁড়ি রয়েছে।

দ্বিতীয় তলাটি প্রায় নিচ তলার আদলে নির্মিত। তবে দ্বিতীয় তলার সামনের বারান্দাটি ছাদবিহীন এবং কোন স্তম্ভ (column) নেই। এ  বারান্দাটির সামনে স্বল্প উচ্চতার প্রাচীর (parapet) রয়েছে। সাধারণ স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যের এ স্থাপনাটির নির্মাণ উপকরণ হিসেবে পোড়ামাটির ইট, চুন, বালি, লোহার ও কাঠের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। ছাদে লোহার বীম ও কাঠের বর্গার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে অপরিকল্পিত মেরামত বা সংস্কার ও পুন:নির্মাণ করে রবীন্দ্র কাচারীর বাড়িটির অংশবিশেষ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া দেয়ালে সিমেন্টের আস্তর দেয়া হয়েছে। নিচতলার বারান্দার পশ্চিমাংশ পরবর্তীতে নতুন দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ স্থাপনাটির দরজা ও জানালাগুলোর অধিকাংশের কপাট নেই এবং দেয়ালের অনেক স্থানের আস্তর উঠে গেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্কার কাজ পরিচালনা করার জন্য রবীন্দ্র কাচারী বাড়িটির প্রত্ন-স্থাপত্যিক বিশ্লেষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | Historical Background

অষ্টাদশ – ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর কুষ্টিয়া অঞ্চলের অন্যতম জমিদার ছিলেন। ১৮০৭ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর জমিদারি ক্রয়ের সুবাদে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের অনেক জমি এবং স্থাপনার মালিক হন। ১৮৮৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পৈতৃক এ জমিদারি দেখাশুনার ভার গ্রহণ করে শিলাইদহে আগমন করেন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশুনার কারণে বহুদিন শিলাইদহে বসবাস করেন। জানা যায় যে, ১৮৯১ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ এ কাচারী বাড়ি (তহশিল খানায়) বসে জমিদারির খাজনা আদায় করেছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও এ কাচারী বাড়িতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (তহশিল অফিস) কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৯ জুলাই ২০১৮ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট অনুসারে, ‘বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত ‘কাছারী বাড়ি (তহশিল খানা)’ নামে কুষ্টিয়ার এ রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি (তহশিল খানা) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হয়, যা বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

লেখক: মো. শাহীন আলম  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *