শিখরী মন্দির শিল্পের নিদর্শন: কুমিল্লা জেলার হোমনার পুরাকীর্তি কাশিপুর মঠ

পূর্ব কাশিপুর গৌরি মঠ

অবস্থান: কাশিপুর মঠ কুমিল্লা জেলাধীন হোমনা উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের পূর্ব কাশিপুর গ্রামে অবস্থিত। মঠটি কুমিল্লা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার (aerial distance) উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং হোমনা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার (aerial distance) দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত পূর্ব কাশিপুর গ্রামের মাছিমপুর-শ্রীপুর সংযোগ রোডের পূর্বপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মঠের দক্ষিণ-পশ্চিম ১টি ও উত্তর-পূর্ব দিকে ১টি পুকুর রয়েছে। মঠটি থেকে প্রায় ২০০ মিটার উত্তর-পূর্ব পাশ দিয়ে তিতাস নদীর একটি শাখা প্রবাহিত হয়েছে।

স্থাপত্যিক বিবরণ: ভূমি থেকে মঠটি প্রায় ১৮ মিটার উঁচু । মঠের নিচের অংশে বর্গাকার কক্ষবিশিষ্ট ১টি তলা রয়েছে। কক্ষটির প্রতিটি দেয়ালের দৈর্ঘ্য ৪.২০ মিটার। মঠটির দক্ষিণ দেয়ালে ১টি প্রবেশপথ রয়েছে। এছাড়া অপর ৩টি দেয়ালের বাহির পৃষ্ঠে বিভিন্ন ফুল, জন্তু, প্যানেল, জ্যামিতিক ও অর্ধবৃত্তাকার খিলান নকশা দেখা যায়। বর্গাকার কক্ষটির ছাদ বরারবর অলংকৃত কার্ণিস রয়েছে। বর্গাকার কক্ষটির ছাদের উপরে মাঝ বরাবর থেকে ১টি অষ্টভূজাকারের শিখর (octagonal pyramid) ক্রমশ সরু হয়ে উপরের দিকে উঠে গিয়েছে। ছাদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ১টি এবং উত্তর-পূর্ব কোণে ১টি ছোট আকারের লৌহ দন্ডযুক্ত শিখর (pyramid)  বা স্তম্ভ রয়েছে। তবে অপর দু’কোণের স্তম্ভদ্বয় দেখা যায় না। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অপর দু’কোণের স্তম্ভদ্বয় ধ্বসে পড়ে গেছে। বর্গাকার কক্ষটির ছাদের উপরে চারকোণে ৪টি ছোট স্তম্ভ (শিখর) এবং মাঝের সুউচ্চ ১টি শিখরসহ মোট ৫টি শিখর থাকায় এ মঠটিকে পঞ্চরত্ন মঠও বলা যায়। অষ্টভূজাকারের শিখরটির (octagonal pyramid) নিচের অংশে ড্রামের বাহির দেয়ালে খড়খড়ি (venetian blind) নকশা এবং চূড়ায় উপরে রয়েছে কলস নকশা। জানা যায় যে, মঠের শিখরে বা চূড়ায় কলস নকশার উপরে ১টি ত্রিশূল ছিল। যা পরবর্তীতে হারিয়ে যায়। 

ঐতিহাসিক পটভূমি: গৌর বা গৌরি মঠ নামে পরিচিত কাশিপুর মঠটি শিখরী মন্দির শিল্পের অন্যতম অপূর্ব নিদর্শন। এ মঠটিতে কোন খোদিত শিলালিপি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, আনুমানিক ১১৭ বছর আগে এ মঠটি স্থানীয় জমিদার হরিশচন্দ্র কর্মকারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়। তবে স্থাপত্যিক গঠনশৈলী ও নির্মাণ উপকরণ দেখে অনুমান করা যায়, খ্রিস্টীয় ১৯ শতকের শেষের দশকে কিংবা ২০ শতকের ১ম দশকে এ মঠটি নির্মাণ করা হয়।


লেখক: মো: শাহীন আলম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *