শিল্পবস্তু ও এর শ্রেণীবিভাগ | Artefact & Its Classification

শিল্পবস্তু [Artefact]: শিল্পবস্তু বলতে মানুষ কর্তৃক তৈরি বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহার্য এবং শৌখিন বস্তু বা উপকরণকে বুঝায়। অস্থি, পাথর, তামা, লোহা, কাদা, কাঠ, কাগজ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে মানুষ বিভিন্ন প্রকারের শিল্পবস্তু সৃষ্টি বা নির্মাণ করে। শিল্পবস্তুকে আবার সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক নির্দশন বা উপাদানও বলা হয়। শিল্পবস্তুগুলো অলংকৃত হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। এসব শিল্পবস্তু আকারে কোনটি ছোট, আবার কোনটি বড়ও হয়ে থাকে। সুপ্রাচীনকাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত মানুষ নিজের প্রয়োজনে বিভিন্ন শিল্পবস্তু সৃষ্টি বা নির্মাণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ:- মৃৎপাত্র, গুহাচিত্র, দেয়াল-চিত্র, গহনা, মূর্তি, অস্ত্র, চেয়ার-টেবিল প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

চিত্র: বিভিন্ন প্রকারের শিল্পবস্তু।


শিল্পবস্তুর শ্রেণীবিভাগ [Classification of Artefact]: মানুষ নিজের প্রয়োজনে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পবস্তু নির্মাণ করেছে। গঠন বা নির্মাণ উপকরণ অনুযায়ী সুপ্রাচীন থেকে আধুনিককালের সকল শিল্পবস্তুকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

১. জৈব শিল্পবস্তু ও

২. অজৈব শিল্পবস্তু

১. জৈব শিল্পবস্তু [Organic Artefact]: জৈব শিল্পবস্তু বলতে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীজাত উপকরণ দিয়ে নির্মিত শিল্পবস্তুকে বুঝায়। উদাহরণস্বরূপ:- তালপাতার পুথি, পাটাচিত্র, দেয়াল-চিত্র, ক্যানভাস-চিত্র, চামড়াজাত বস্তু, বস্ত্র, কাগজ ও কাগজজাত বস্তু, কাঠজাত বস্তু, অস্থি ও হাঁতির দাঁত প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

আবার  জৈব শিল্পবস্তুকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন-

১.১. উদ্ভিদজাত শিল্পবস্তু [Plant-born Artefact]: তালপাতার পুথি, কাগজ ও কাগজজাত বস্তু, কাঠজাত বস্তু প্রভৃতি; এবং

১.২. প্রাণীজাত শিল্পবস্তু [Animal-born Artefact]: অস্থি ও হাঁতির দাঁত, চামড়াজাত বস্তু প্রভৃতি।

২. অজৈব শিল্পবস্তু [Inorganic Artefact]: অজৈব শিল্পবস্তু বলতে বিভিন্ন ধাতব ও অধাতব খনিজ ও শিলা বা পাথরজাত উপকরণ দিয়ে নির্মিত শিল্পবস্তুকে বুঝায়। উদাহরণস্বরূপ:- মৃৎপাত্র, লোহা, তামা, টিন, ব্রোঞ্জ, রূপা, সোনা প্রভৃতির ধাতব বস্তু; আগ্নেয়শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মূর্তি ও তৈজসপত্র; পোড়ামাটির অলংকৃত ইট; চীনামাটির বিভিন্ন বস্তু প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

আবার  অজৈব শিল্পবস্তুকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন-

২.১. ধাতব শিল্পবস্তু [Metallic Artefact]: লোহা, তামা, টিন, ব্রোঞ্জ, রূপা, সোনা, ইস্পাত প্রভৃতি দিয়ে নির্মিত বস্তু; এবং

২.২. অধাতব শিল্পবস্তু [Non-metallic Artefact]: আগ্নেয়শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলার তৈরি বিভিন্ন মূর্তি ও তৈজসপত্র; বিভিন্ন প্রকারের মৃৎপাত্র; পোড়ামাটির অলংকৃত ইট; চীনামাটির বিভিন্ন বস্তু; কাঁচের বস্তু; জীবাশ্মজাত বস্তু প্রভৃতি।


সহায়িকা: ১. ভট্টাচার্য, অধ্যাপক শচীন্দ্রনাথ, শিল্পবস্তু সংরক্ষণ (প্রথম খণ্ড), বিবেকানন্দ বুক সেণ্টার: কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩, ৫।
২. আলোকচিত্রগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত।


লেখক: মো. শাহীন আলম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।


[Keywords: Artifact, Artefacts, Shilpabastu, Jaiba o Ajaiba Shilpabastu, Udvitjat o Pranijat Shilpabastu, Datab o Adatab Shilpabastu] 


 

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *