সমুদ্র পানির উষ্ণতার তারতম্যের কারণ

সাগর ও মহাসাগরের সর্বত্র পানির তাপমাত্রা একই রকম থাকে না। আবার ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে সমুদ্রের একই স্থানে তাপমাত্রার তারতম্য অনুভূত হয়ে থাকে। সমুদ্রের পানির এরূপ তাপমাত্রার হাস-বৃদ্ধি যে সব কারণের উপর নির্ভর করে সেগুলাের মধ্যে নিম্নলিখিতগুলাে উল্লেখযোগ্য:

ক) অক্ষাংশ ভেদ [Latitude Difference]: বেশি তাপমাত্রার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়ে থাকে। নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে উষ্ণতা ক্রমশ কমতে থাকে। অত্যাধিক ঠান্ডার জন্য মেরু প্রদেশের সাগর ও মহাসাগরের পানিতে উষ্ণতা খুবই কম। |

খ) দিনরাত্রির ভেদ [Day and Night Difference]: সূর্য তাপে দিনের বেলা সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত এবং রাত্রিতে তাপ বিকিরণ করে ক্রমশ তা শীতল হয়ে থাকে। দিবা ভাগের সময় বেশি হলে পানিরাশি বেশি উত্তপ্ত হয়। অপরদিকে রাত্রি ভাগের সময় বেশি হলে পানি বেশি শীতল হয়ে পরে। দিন ও রাত্রির উষ্ণতায় সমুদ্রের পানির পার্থক্যের গড় মাত্র ১২.২২° সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে।

গ) ঋতু ভেদ [Seasonal Differences]: গ্রীষ্ম ঋতুতে সূর্যের আলাে লম্বভাবে বেশি সময়ব্যাপী এবং শীত ঋতুতে তীর্যকভাবে স্বল্প সময়ব্যাপী পতিত হয়। আর এ কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উষ্ণতা সাধারণত ১২.২২° সেন্টিগ্রেড অপেক্ষা কম থাকে।

ঘ) গভীরতা ভেদ [Depth Difference]: আমরা জানি যে, উষ্ণ পানি সাধারণত শীতল পানি অপেক্ষা হালকা। এ কারণে সমুদ্রের অগভীর অংশে বা উপরিভাগের উষ্ণ পানির স্তর এবং গভীর অংশে বা নিম্নভাগের শীতল পানির স্তর অবস্থান করে। তাছাড়া সমুদ্রের গভীর অংশে সূর্যতাপের প্রভাব খুবই অল্প। অগভীর সমুদ্র অপেক্ষা গভীর সমুদ্রের পানি কম উত্তপ্ত হয়। সমুদ্রের উপরিভাগে উষ্ণতা বেশি থাকে এবং নিচের দিকে ক্রমশ কম থাকে। সমুদ্রের গভীরতম স্থানের উষ্ণতার পরিমাণ প্রায় সর্বত্র একই রকম থাকে।

ঙ) সমুদ্র স্রোত [Ocean Current]: উষ্ণ ও শীতল স্রোত প্রবাহের সংস্পর্শে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রার পরিবর্তিত হয়ে থাকে। উষ্ণ স্রোত প্রবাহের ফলে কোন অঞ্চলের পানি উষ্ণ এবং শীতল স্রোত প্রবাহের ফলে কোন অঞ্চলের পানি শীতল হয়ে থাকে।

চ) শৈলশিরার অবস্থান [Location of the Ridge]: সমুদ্রের মধ্যে মগ্ন শৈলশিরা সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে। মগ্ন শৈলশিরা সমুদ্রের পানি প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি করার ফলে উষ্ণতার তারতম্য হয়।প্রবাহের পথে শৈলশিরা দ্বারা উষ্ণ স্রোত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে সেটি আর সামনে অগ্রসর হতে পারে না। অনুরূপভাবে প্রবাহের পথে শৈলশিরা দ্বারা শীতল স্রোত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে সেটিই সামনে অগ্রসর হতে পারে না। [মো: শাহীন আলম]


সহায়িকা:
১. রহমান, মোহাম্মদ আরিফুর, প্রাকৃতিক ভূগোল, ২০১৭-২০১৮, কবির পাবলিকেশন্স, ঢাকা।
২. Singh, Savindra, Physical Geography, 2009, Prayag Pustak Bhawan, Allahabad.


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *