সম্ভাবনাবাদ: মানুষ ও পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্ক  | Possibilism

পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পরিবেশ দেখা যায়। প্রতিটি স্থানের পরিবেশ সেখানকার মানুষদের জন্য কিছু সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করে। এ সম্ভাবনাগুলোর ব্যবহার মানুষ তাদের নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী করে। এখানে প্রকৃতির পরিবর্তে মানুষকে সক্রিয় ভাবা হয় এবং মানুষের উপরে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রকৃতির দায়িত্ব হল কেবল সম্ভাবনার দিকগুলো উন্মুক্ত করা। এ কারণে এ মতবাদকে সম্ভাবনাবাদ বলে।

১৯২৪ সালে ফরাসি ঐতিহাসিক Lucien Febvre তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘A Geographical Introduction to History’ তে উল্লেখ করেন, ‘Nature does not drive man along a particular road, but it offers a number of opportunities from among which man is free to select.’

অর্থাৎ ‘প্রকৃতি মানুষকে বিশেষ কোন পথে চালিত করে না, বরং অনেকগুলো সুযোগকে সামনে এনে দেয় যা থেকে মানুষ তার ইচ্ছেমত বেছে নিতে পারে।

Febvre আরো উল্লেখ করেন, ‘There are no necessities, but everywhere possibilities; and man as master of these possibilities is the judge of their use.’

অর্থাৎ ‘প্রয়োজন বলে কিছু নেই, তবে যা সর্বত্র আছে তা হল সম্ভাবনা। মানুষ সে সম্ভাবনাগুলোর কর্তা হিসেবে বিচার করে, তাদের কিভাবে ব্যবহার করা হবে।’

চরম খরা প্রবণ এলাকায় মানুষ খাল খনন করে সে এলাকাকে বসবাসের উপযোগী করে। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলো কাজে ব্যবহারের নতুন নতুন উপায় গড়ে তোলে। মানুষ তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাকৃতিক পরিবেশকে সর্বদাই পরিবর্তন করে নিজের জন্য আরো উপযোগী করে তুলছে।

সূতরাং মানুষ ও পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, মানুষের উপর প্রকৃতির আধিপত্য অবাধ নয়। বরং প্রকৃতি মানুষের সামনে একাধিক সম্ভাব্য সুযোগ ও সুবিধা উপস্থাপন করে। মানুষ নিজ নিজ ইচ্ছা ও সংস্কৃতি অনুযায়ী বিচার ও বিবেচনা করে যে কোন সম্ভাবনাকে বেছে নেয়। [সংকলিত]


সংকলক: মো. শাহীন আলম


তথ্যসূত্র:
১. দত্ত, কুন্তলা লাহিড়ী, ভূগোল চিন্তার বিকাশ, দি ওয়ার্ল্ড প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড, কলিকাতা, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫১।
২. বাকী, আবদুল, ভুবনকোষ, সুজনেষু প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১৩, পৃষ্ঠা ২৮৮।


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *