সামুদ্রিক লবণের মূল উৎস ও পরিমাণ | Sea Salts

সমুদ্রের পানি স্বাদে লবণাক্ত। সমুদ্র পানির লবণের মূল উৎস হল পৃথিবীর ভূ-ভাগ বা স্থলভাগ। এ সম্পর্কে ভূ-তাত্ত্বিকগণ বলেন যে, পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় লবণ জাতীয় বহু উপাদান গলে সমুদ্রের পানির সাথে মিশে যায়। বর্তমানে পৃথিবীর ভূ-ভাগ বা স্থলভাগ থেকে বিভিন্ন লবণ জাতীয় উপাদান বৃষ্টিপাত, ঝরণা, হিমবাহ, খাল, নদী, প্লাবন প্রভৃতি দ্বারা বাহিত হয়ে প্রতিনিয়ত সমুদ্রের পানির সাথে মিশ্রিত হচ্ছে। আবার সমুদ্রের গভীরে মগ্ন আগ্নেয়গিরি থেকে উত্থিত লবণও সমুদ্রের পানিতে মিশ্রিত হয়। সামুদ্রিক জীবজন্তু তাদের দেহের গঠনে খাদ্য হিসেবে কিছু ‍কিছু লবণ সমুদ্র থেকে গ্রহণ করে। অপরদিকে সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়ে সমুদ্রের পানির পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু লবণ বাষ্পীভূত না হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সমুদ্রবিজ্ঞানীগণ মনে করেন যে, বিভিন্ন সাগর ও মহাসাগর থেকে সম্পূর্ণ লবণ সংগ্রহ করতে পারলে, তা দিয়ে সমগ্র পৃথিবীর স্থলভাগের উপরে আরও ১৫২.৫ মিটার পুরু করা যেত (Joly)।

সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা পরিমাপ করা হয় – প্রতি হাজারে (%০)। অর্থাৎ ৩৫%০ লবণাক্ততা মানে হল ১০০০ গ্রাম সমুদ্রের পানিতে ৩৫ গ্রাম লবণ রয়েছে। বর্তমানে সমুদ্রের পানির ৩৫%০ বিভিন্ন প্রকারের খনিজ লবণ রয়েছে। আবার এ লবণের মধ্যে ২১.২১৩%০ হল সাধারণ লবণ (common salt), যা আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। সমুদ্রের পানিতে থাকা ৭টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ লবণের পরিমাণ সম্পর্কে নিম্নের সারণিতে তুলে ধরা হল।

 সামুদ্রিক লবণের (sea salts) নামলবণের শতকরা পরিমাণ (%)প্রতি হাজারে পরিমাণ (%০)
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)৭৭.৭৫২১.২১৩
ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড (MgCl2)১০.৮৭৩.৮০৭
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSo4)৪.৭৩১.৬৫৮
ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSo4)৩.৬০১.২৬০
পটাসিয়াম সালফেট (K2So4)২.৪৬০.৮৬৩
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCo3)০.৩৪০.১২৩
ম্যাগনেসিয়াম ব্রোমাইড (Mgbi)০.২৫০.০৭৬
মোট১০০.০০৩৫.০০০


সহায়িকা: ‍Singh, Savidra, Physical Geography, 2009, Prayag Pustak Bhawan, Allahbad, P. 352-353.


লেখক: মো. শাহীন আলম


 

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *