অর্থনীতির চাহিদা সূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন

চাহিদা সূচি বলতে সাধারণত যে কোন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ও হ্রাসের সাথে যথাক্রমে চাহিদার হ্রাস ও বৃদ্ধির সম্পর্ক প্রকাশের সূচিকে বুঝায়। চাহিদা বিধিতে মূল্য বা দামের সাথে চাহিদার একটি বিপরীত সম্পর্ক দেখা যায়। অর্থাৎ যে কোন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে চাহিদার পরিমাণ হ্রাস পায়। আবার যে কোন দ্রব্যের মূল্য হ্রাস পেলে চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। দ্রব্য মূল্যের সাথে চাহিদার বিপরীত সম্পর্কের ধারণা প্রকাশের সূচিকে চাহিদা সূচি বলে। সুতরাং, একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোন দ্রব্যের বিভিন্ন মূল্যে যে বিভিন্ন পরিমাণ চাহিদা হয়, তা যে সূচি বা তালিকার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকে চাহিদা সূচি বা চাহিদা তালিকা বলা হয়।

চাহিদা সূচি

প্রতি একক দ্রব্যের মূল্য (টাকায়) চাহিদার পরিমাণ (একক)
১০.০০
৮.০০
৬.০০
৪.০০

উপরের চাহিদা সূচি অনুযায়ী, কোন দ্রব্যের প্রতি এককের মূল্য বা দাম ১০ টাকা হলে একজন ভােক্তা ২ একক দ্রব্য ক্রয় করে। মূল্য হ্রাস পেয়ে ৮ টাকা, ৬ টাকা এবং ৪ টাকা হওয়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৪ একক, ৬ একক এবং ৮ একক হয়েছে। এভাবে চাহিদা সূচির মাধ্যমে মূল্য এবং চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক দেখা যায়। উপরের এ চাহিদা সূচিটি থেকে নিম্নে একটি চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হল।

চাহিদা রেখা
চাহিদা রেখা

উপরের রেখাচিত্রে OX অক্ষে চাহিদার পরিমাণ এবং OY অক্ষে দ্রব্যের মূল্য বা দাম দেখানাে হয়েছে। দ্রব্যের মূল্য বা দাম যখন ১০ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ ২ একক। এখন, ১০ টাকা দাম ও ২ একক পরিমাণ থেকে ২টি লম্ব অঙ্কন করলে তা পরস্পর Q বিন্দুতে মিলিত হয়। এরূপভাবে R, S ও T বিন্দুতে যথাক্রমে ৮ টাকায় ৪ একক, ৬ টাকায় ৬ একক এবং ৪ টাকায় ৮ একক দ্রব্যের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে। এবার,  Q, R, S ও T বিন্দুগুলােকে যােগ করে DD’ রেখা পাওয়া যায়। এ DD’ রেখাই হল চাহিদা রেখা । DD’ চাহিদা রেখার বিন্দুগুলাে দ্রব্যের বিভিন্ন দামে চাহিদার বিভিন্ন পরিমাণ নির্দেশ করছে। এভাবে চাহিদা বিধি অনুযায়ী চাহিদা সূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন করা যায়। উল্লেখ্য যে, এখানে স্বাভাবিক দ্রব্যের একটি চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হয়েছে।

বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন: কোন একজন ব্যক্তির চাহিদা সূচি থেকে যেমনি ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা অঙ্কন করা যায়, তেমনি বাজার চাহিদা রেখাও অঙ্কন করা যায়। বাজারে নির্দিষ্ট মূল্যে বা দামে সকল ভােক্তার বা ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণের সমষ্টিকে বাজার চাহিদা বলে। এখানে ধরে নেয়া হল, একটি বাজারের ভােক্তা সংখ্যা ২ জন। এখন, ২ জন ভােক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা সূচি থেকে চাহিদা রেখার মাধ্যমে নিম্নে বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হল।

বাজার চাহিদা সূচি

দ্রব্যের মূল্য (টাকায়) ১ম ভােক্তার চাহিদা 
দ্রব্যের একক (কুইন্টাল)
২য় ভােক্তার চাহিদা 
দ্রব্যের একক (কুইন্টাল)
বাজার চাহিদা 
দ্রব্যের একক (কুইন্টাল)
(Q1) (Q2) (Q=Q1+Q2)
৬.০০ ১০ ১৫
৪.০০ ১০ ১৫ ২৫
২.০০ ১৫ ২০ ৩৫

উপরের চাহিদা সূচিতে কোন দ্রব্যের বিভিন্ন মূল্যে বা দামে ১ম এবং ২য় ভােক্তার চাহিদার পরিমাণ দেখানাে হয়েছে। এ ২ জন ভােক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা সূচি থেকে যেভাবে বাজার চাহিদা সূচি তৈরি করা যায়, তা উপস্থাপন করা হলো। বাজারে কোন দ্রব্য বিভিন্ন দামে বিভিন্ন ভোক্তা বা ব্যক্তি যে পরিমাণ ক্রয় করতে ইচ্ছুক থাকে, তার সমষ্টিকে যে চাহিদা রেখার সাহায্যে প্রদর্শন করা হয়, সে রেখাকে বাজার চাহিদা রেখা বলা হয়। ১ম এবং ২য় ভােক্তার চাহিদা রেখা পাশাপাশি যােগ করে বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করা যায়।

বাজার চাহিদা রেখা
বাজার চাহিদা রেখা

উপরের ৩টি রেখাচিত্রে OY অক্ষে দ্রব্যের দাম এবং OX অক্ষে চাহিদার পরিমাণ দেখানো হয়েছে। এ রেখাচিত্রে বাজারের ১ম এবং ২য় ভােক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা হল যথাক্রমে D1 D1 এবং D2 D2। দ্রব্যের মূল্য বা দাম যখন ৬ টাকা, তখন ১ম  এবং ২য় ভােক্তার চাহিদার পরিমাণ যথাক্রমে ৫ কুইন্টাল এবং ১০ কুইন্টাল এবং বাজার চাহিদা হল (৫ + ১০) কুইন্টাল = ১৫ কুইন্টাল; যা বাজার চাহিদা রেখায় R বিন্দুতে দেখানাে হয়েছে। মূল্য বা দাম কমে ৪ টাকা এবং ২ টাকা হওয়ায় ১ম ও ২য় ভােক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা যথাক্রমে (১০ + ১৫) কুইন্টাল = ২৫ কুইন্টাল এবং (১৫ + ২০ ) কুইন্টাল = ৩৫ কুইন্টাল, যা বাজার চাহিদা রেখায় S ও T বিন্দু দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে। এবার, R, ST বিন্দু যােগ করে DD’ চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো। আর এটিই হল বাজার চাহিদা রেখা। [সংকলিত]


Demand Curve from Demand Index


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *