প্রকল্প প্রণয়নের ধাপ

প্রকল্প প্রণয়নের কতকগুলো ধাপ বা পদক্ষেপ রয়েছে, যে ধাপসমূহ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। নিম্নে প্রকল্প প্রণয়নের ধাপ বা পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করা হলো।

প্রকল্প প্রণয়নের ধাপ
প্রকল্প প্রণয়নের ধাপসমূহ

১। সম্ভাব্যতা যাচাই (feasibility study): সম্ভাব্যতা যাচাই হল প্রকল্প প্রণয়নের প্রথম ধাপ। এ ধাপে প্রকল্প ধারণা বর্ণনামূলকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়। যাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণশীল হবে নাকি বর্জন করা হবে, তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অভ্যন্তরীণ এবং বহি:স্থ সীমাবদ্ধতার আলোকে প্রকল্প ধারণা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রকল্প ধারণা বিশ্লেষণে তিনটি বিকল্পের কথা বিবেচনা করা হয়। প্রথমত, প্রকল্প ধারণা আপাতত সম্ভাবনাময় বলে মনে হয়। দ্বিতীয়ত, সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হয় না। তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।
২। কারিগরি-অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ (techno-economic analysis): এ ধাপে প্রকল্পের সম্ভাব্য চাহিদা নিরূপন ও যথাযথ প্রযুক্তি নির্বাচন করা হয়। প্রকল্প যদি পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে তাহলে উক্ত পণ্য বা সেবার বাজার কি ধরনের হবে, তা জানা জরূরি। এজন্য বাজার বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পণ্য বা সেবার সম্ভাব্য চাহিদার জন্য প্রযুক্তি নির্বাচন করা হয়। কারিগরি-অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য জানা যায় এবং নকশা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়।

৩। প্রকল্প নকশা (project design): প্রকল্প নকশা হলো প্রকল্পের হৃৎপিন্ড। প্রকল্পের কোন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন, নমুনা বস্তু, পণ্য বা প্রক্রিয়া পূর্ণতা দেয়ার জন্য স্তর নির্দিষ্টকরণ হল নকশা। প্রকল্প প্রণয়নের একটি নকশা সাধারণত উন্নয়ন প্রক্রিয়া প্রকাশ করে। তাই সুষ্ঠু প্রকল্প নকশা হল প্রকল্প প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
৪। নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ (network analysis): এ ধাপে পরস্পর সম্পর্কীয় প্রকল্পের প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। প্রকল্পের প্রতিটি ঘটনা ক্রমানুযায়ী ও পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত করা হয়। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের জন্য সময় বন্টন করে তা নেটওয়ার্ক অংকন করে প্রকাশ করা হয়।

৫। ইনপুট বিশ্লেষণ (input analysis): প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য যে সকল ইনপুট প্রয়োজন হয়, তা এ ধাপে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের কি ধরন এবং কি পরিমাণ ইনপুট প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। কাঁচামাল এবং মানব সম্পদ সকলেই প্রকল্পের ইনপুটের অন্তর্ভুক্ত। ইনপুটের প্রাপ্ত বার্তার ভিত্তিতে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা হয়।
৬। আর্থিক বিশ্লেষণ (financial analysis): এ ধাপে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, পরিচালনাগত ব্যয় প্রাক্কলন এবং প্রয়োজনীয় তহবিল বিশ্লেষণ করা হয়। আর্থিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাবনার তুলনা করে সঠিক প্রকল্পটি বাছাই করা সম্ভব হয়। যেহেতু প্রকল্পের বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল, সেহেতু প্রকল্প প্রণয়ন আর্থিক বিশ্লেষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাছাড়া আর্থিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকল্পের আর্থিক পূর্বানুমানসমূহের উপর পরিচিত হওয়া যায়। যা প্রকল্প প্রণয়নের জন্য অনেক জরুরী একটি ধাপ।

৭। ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ (cost benefit analysis): একটি প্রকল্পের সার্বিক মূল্য এ ধাপে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আর্থিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি প্রকল্পকে সম্ভাবনাময় এবং যৌক্তিক বলে ঘোষণা করা হলে পরবর্তীতে দেখা হয় প্রকল্পের ব্যয়-সুবিধা কিরূপ। ব্যয় সুবিধা বিশ্লেষণে কেবল প্রত্যক্ষ-ব্যয় ও প্রত্যক্ষ সুবিধা দেখা হয়, তা নয়। এতে প্রকল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকলের সুবিধা অসুবিধা দেখা হয়।
৮। প্রাক-বিনিয়োগ বিশ্লেষণ (pre-investment analysis): প্রাক বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প প্রণয়ন চূড়ান্ত রূপ পায়। পূর্বের প্রতিটি ধাপে প্রাপ্ত ফলাফল একত্রিত করা হয় এবং প্রতিটি ধাপের শেষ কথা কি হবে, তা প্রকাশ করা হয়। এ ধাপে প্রকল্পকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে প্রকল্পের উদ্যোক্তা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং বহি:স্থ পরামর্শক প্রতিনিধি সকলেই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানতে পারে কোন প্রকল্প গৃহীত হলো বা বাতিল করা হলো।
উপরের উল্লেখিত ধাপসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হলে সহজেই একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা সম্ভব হয়। [শারমিন জাহান সায়মা]


প্রকল্প প্রণয়নের পদক্ষেপসমূহ
Steps in Project Formulation


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *