সংগঠন ও এর বিকাশ | Organisation and Its Development

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কিংবা জনস্বার্থে যে কোন উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করাকে সংগঠন বলে। নিম্নের একটি উদাহরণের মাধ্যমে সংগঠন এবং এর বিকাশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা হয়েছে।

আমেনা বেগম তার সংসারের যাবতীয় কাজের ফাঁকে বাড়িতে একটি গরু-ছাগলের খামার গড়ে তুলেন। এ খামার থেকে সারা বছরই কমবেশি দুধ উৎপাদিত হয়। আমেনা বেগম দুই বছর পরে আয়েশা বেগমের হাঁস-মুরগির খামার দেখতে যান এবং এরপর থেকে আমেনার মাথায় গরু-ছাগলের খামারের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির খামার করার আগ্রহ জাগে। দুই বছরে গরু-ছাগলের খামার থেকে দুধ বিক্রির আয়ের ২৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি বাড়ির পাশে ২ শতক জমিতে হাঁস-মুরগির খামার করে বিভিন্ন জাতের হাঁস-মুরগি লালন-পালন শুরু করেন। তার ২টি খামারে নতুন করে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ােগ দেন। গরু-ছাগলের খামার থেকে দুধ বিক্রি এবং এক বছর পরে হাঁস-মুরগির খামার থেকে ডিম বিক্রি শুরু হলে আমেনার উপার্জন আরও বাড়তে থাকে। দুই সন্তানের পড়াশােনার খরচ এবং সংসারের অন্যান্য যাবতীয় খরচ মিটিয়ে আমেনার সঞ্চয়ও বাড়তে থাকে। আমেনার গরু-ছাগলের খামার এবং হাঁস-মুরগির খামারের কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁর স্বামী রফিক মিয়া শহরের চাকরি ত্যাগ করে গ্রামে স্ত্রীর খামারে যােগ দেন। উভয়ের প্রচেষ্টায় তারা বেশ কিছু জমি, গরু-ছাগল এবং হাঁস-মুরগি চাষের আওতায় নিয়ে আসেন। ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক নিয়ােগ করেন। প্রত্যেক শ্রমিকের কাজও বুঝিয়ে দেন তাঁরা। আমেনা এবং রফিক মিয়া পালাক্রমে শ্রমিক কর্মচারী এবং খামারসমূহ দেখভাল করেন। তারা দুধ ও ডিম বাজারজাতকরণ এবং বেচা-কেনার ব্যবস্থাও করেন। তাদের এ সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকে তাদের অনুসরণ করে গ্রাম এলাকায় গরু-ছাগল এবং হাঁস-মুরগি খামার শুরু করেন। দুধ ও ডিম ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারী বা পাইকারগণ আমেনার গ্রামে নিয়মিত আসে। কয়েক বছরে গ্রামটি কৃষি, গরু- ছাগল ও হাঁস-মুরগির খামার, মাছ প্রভৃতি চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করে। এলাকায় এখন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদন করা হয়।


উপরের উদাহরণ থেকে  আমেনা বেগমকে একজন সংগঠক বলা যায়। একই সাথে, তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা বিকাশ লাভ করেছে বলা যায়। আরও নিশ্চিত যে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করাই সংগঠন। প্রকৃতপক্ষে সংগঠন ছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্বে উৎপাদন কার্যক্রমে বিভিন্ন জন বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। একজন সংগঠক দক্ষতার সাথে যােগ্যতা অনুযায়ী এ দায়িত্ব ভাগ করে দেন। এরূপে কর্মীদের সহায়তায় উৎপাদন ও ব্যবসায়ের বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পন্ন হয়। তবে এসব কার্যাবলি সম্পাদনে কর্মীদের মধ্যে একটি পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক এ অধিকার ও দায়িত্বের কাঠামােই হল সংগঠন। সুতরাং সংগঠনকে ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা যায়।
সংগঠনের বিভিন্ন অংশ এক সাথে ধরে রাখা এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়ােজনীয় রূপরেখা তৈরি করা একটি সাংগঠনিক কাঠামাের কাজ। যে কোন সাংগঠনিক কাঠামাে মূলত: বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব বণ্টন করে এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা গড়ে তােলে। ব্যবসায়ের সাংগঠনিক কাঠামাে মূলত: ব্যবসায়ের আয়তন, উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ, শিল্পের প্রকৃতি, উৎপাদন প্রক্রিয়া, শ্রমিকের দক্ষতা প্রভৃতির উপর নির্ভর করে।

সাংগঠনিক কাঠামাের (organogramm) বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ এবং শাখার কাজ নির্দিষ্ট করে ভারপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন এবং অধস্তন কর্মীদের পদগুলাে ক্রমানুসারে সাজানো হলে কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামাের যে সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায় তাকে সংগঠনের চিত্র বলে। সংগঠন ব্যবস্থাপনা যত সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে, যে কোন প্রতিষ্ঠানের সাফল্য তত বেশি হবে। সুতরাং সংগঠনই হল যে কোন ব্যবসায়ের কিংবা সামাজিক উৎপাদনের মৌলিক  এবং প্রধান বিষয় । [সংকলিত]


সংগঠনের ধারণা ও সংগঠনের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করুন।


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *