শিম্পাঞ্জিদের পাথরের সাথে এক রোমাঞ্চকর প্রেম!
একটি স্ফটিক কোনো পাথর শিম্পাঞ্জির হাতে তুলে দিলে, সেটি আর ফিরে নাও আসতে পারে।

গবেষকেরা এ অভিজ্ঞতা তিক্তভাবে অর্জন করেন। একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিম্পাঞ্জিদের সামনে কোয়ার্টজ, ক্যালসাইট এবং অন্যান্য ধরনের স্ফটিক উপস্থাপন করা হয়। শিম্পাঞ্জিগুলো পরীক্ষাটির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখায়, এবং সবচেয়ে বড় স্ফটিকটি ফেরত পেতে গবেষকদের বিপুল পরিমাণ কলা ও দই ব্যবহার করতে হয়। অন্য কিছু স্ফটিক আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শিম্পাঞ্জি–স্ফটিক নিয়ে এ পরীক্ষার ফলাফল Frontiers in Psychology সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে— ঝকঝকে খনিজ পদার্থগুলোর মধ্যে এমন কী রয়েছে, যা মানুষের নিকটতম প্রাণী শিম্পাঞ্জিদের কাছে এত আকর্ষণীয়। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন স্পেনের Donostia International Physics Center–এর স্ফটিকবিজ্ঞানী ড. গার্সিয়া-রুইজ।
ড. গার্সিয়া-রুইজের পেশাগত জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে স্ফটিকের ভৌত বৈশিষ্ট্য গবেষণায় এবং এর ব্যবহার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে। তবে তিনি শিল্পের ইতিহাস ও মানব মনের ইতিহাসে স্ফটিকের প্রভাব নিয়েও গভীরভাবে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে কোয়ার্টজ ও অন্যান্য স্ফটিকের সন্ধান মিলেছে, এবং ধারণা করা হয় যে, প্রায় ৭ লাখ বছর আগে মানব-পূর্ব পূর্বপুরুষরা এসব পাথর সংগ্রহ করতেন। তবে এগুলোকে সরঞ্জাম, অলংকার বা অন্য কোনো ব্যবহারিক জিনিসে রূপান্তর করা হয়েছিল — এমন কোনো প্রমাণ গবেষকেরা পাননি।
আধুনিক মানুষও স্ফটিক (crystal) বস্তু পছন্দ করে এবং কখনও কখনও এগুলোর প্রতি আরোগ্যদান বা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার বিশ্বাস আরোপ করা হয়। কেউ কেউ বলেন, মানুষকে জানানো উচিত যে, এসব ধারণা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তবুও ড. গার্সিয়া-রুইজ মনে করেন, এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো — মানুষকে বোঝানো কেনো এ বিশ্বাসের উৎপত্তি হয়েছে।
📚 Reference : Chimpanzees Are Really Into Crystals
✍️ লেখক : মো. শাহীন আলম
Follow Us on Our YouTube channel : GEONATCUL