সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলতে কি বুঝায়?

সালোকসংশ্লেষণ (photosynthesis):

সালোকসংশ্লেষণ (photosynthesis) একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতি মুহূর্তে হাজারো জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে থাকে। আর এ বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হয় শক্তির। পৃথিবীতে শক্তির মূল উৎস সূর্য। আর সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এভাবেই সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ মাধ্যমে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (photosynthesis) বলা হয়।

এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সবুজ উদ্ভিদে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কাণ্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত রাখে। উদ্ভিদে সঞ্চিত এ খাদ্যের উপরেই মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে। আমাদের জীবন পরিচালনার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন, তা আমরা উদ্ভিদ থেকেই পেয়ে থাকি। এ জন্য আমাদের সবুজ উদ্ভিদের উপরেই নির্ভরশীল হতে হয়।

সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ। ছবি: wikimedia.org

সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো – ক্লোরোফিল (chlorophyll), পানি (water), আলো (light) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (carbon dioxide)। সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক (bio-chemical) বিক্রিয়া: 6CO2 + 12H2O + (আলো – ক্লোরোফিল) = C6H12O6 + 6H2O + 6O2। পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে, পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছায় এবং স্টোমা বা পাত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে। জলজ উদ্ভিদ দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে।

বায়ুমণ্ডলে ০.০০৩% এবং বারিমণ্ডলে ০.৩% কার্বন ডাই-অক্সাইড রয়েছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত দ্রব্য (by-product)। এটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (Oxidation-reduction process)। এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়। [ইশরাত জাহান মিম]


সহায়িকা: জীববিজ্ঞান (নবম -দশম পাঠ্য বই), পৃষ্ঠা ৬৭, ৬৮।


Follow Us in Our Youtube Channel: GEONATCUL


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *