সাধারণ জাবেদা দাখিলা দেওয়ার সহজ কৌশল

সাধারণ জাবেদা হিসাবের শ্রেণীভুক্ত সঠিকভাবে করার জন্য পাঁচটি কৌশল, যা মনে রাখলে কখনও জাবেদা ভুল হবে না।

প্রথমে বলে রাখি হিসাববিজ্ঞানের পাঁচ প্রকার হিসাবের শ্রেণি ১. সম্পদ ২. দায় ৩. আয় ৪. ব্যয় ও ৫. মালিকানা সত্ত্ব ভালভাবে বুঝতে হবে।

কৌশলগুলো হল:

ক. সম্পদ জাতীয় হিসাব বাড়লে ডেবিট হবে, কমলে ক্রেডিট লিখতে হবে।

উদাহরণ : আসবাবপত্র ক্রয় করা হল ১০,০০০ টাকা।

জাবেদা হবে-

হিসাবের নামডেবিট ক্রেডিট 
আসবাবপত্র হিসাব১০,০০০ 
নগদান হিসাব ১০,০০০

এখানে লক্ষ্য করুন। আসবাবপত্র ক্রয় করায় একটি সম্পদ আসবাবপত্র বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আসবাবপত্র হিসাব ডেবিট করা হয়েছে। অন্যদিকে আর একটি সম্পদ নগদান হিসাব যেটি হ্রাস পেয়েছে তাই ক্রেডিট করা হয়েছে।

খ. সকল প্রকার মুনাফা জাতীয় ব্যয় ডেবিট করতে হবে।

উদাহরণ : পণ্য ক্রয় ৫,০০০ টাকা।

জাবেদা:
ক্রয় হিসাব – ডেবিট
নগদান হিসাব – ক্রেডিট

এখানে লক্ষ্য করুন, পণ্য  ক্রয় করায় একটি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই ডেবিট করা হয়েছে। অপরদিকে নগদে ক্র‍য় করায় সম্পদ হ্রাস পেয়েছে, তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট করা হয়েছে।

এমনিভাবে বেতন, ভাড়া, পরিবহণ খরচ ইত্যাদির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় ডেবিট করতে হবে।

গ. দায় বাড়লে ক্রেডিট আর কমলে ডেবিট করতে হবে।

উদাহরণ : ধারে ক্রয় ১০,০০০ টাকা।

জাবেদা:
ক্রয় হিসাব – ডেবিট
পাওনাদার হিসাব – ক্রেডিট

এখানে লক্ষ্য করুন, পণ্য ক্রয় করায় একটি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই ডেবিট করা হয়েছে। অপরদিকে ধারে বা বাঁকিতে ক্র‍য় করায় দায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই পাওনাদার হিসাব ক্রেডিট করা হয়েছে।

আবার, পাওনাদারকে পরিশোধ ৫,০০০ টাকা।

জাবেদা:
পাওনাদার হিসাব – ডেবিট
নগদান হিসাব – ক্রেডিট

এখানে লক্ষ্য করুন, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করায় দায় হ্রাস পেয়েছে, তাই ডেবিট করা হয়েছে। অপরদিকে নগদে পরিশোধ করায় একটি সম্পদ হ্রাস পেয়েছে, তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট করা হয়েছে।

ঘ. আয় হলে আয় হিসাব ডেবিট করতে হবে।

উদাহরণ : নগদে বিক্রয় ২,০০০ টাকা।

জাবেদা:
নগদান হিসাব – ডেবিট
বিক্রয় হিসাব – ক্রেডিট

এখানে লক্ষ্য করুন, বিক্রয় করায় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট করা হয়েছে। অপরদিকে নগদে বিক্রয় করায় সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই নগদান হিসাব ডেবিট করা হয়েছে।

ঙ. মালিকানা সত্ত্ব বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে ডেবিট করতে হবে।

উদাহরণ : মালিক কর্তৃক ব্যবসায়ে বিনিয়োগ ১০,০০,০০০ টাকা।

জাবেদা:
নগদান হিসাব – ডেবিট
মূলধন হিসাব – ক্রেডিট

আবার, ব্যবসায় হতে উত্তোলন ১,০০০ টাকা।

জাবেদা:
উত্তোলন হিসাব – ডেবিট
নগদান হিসাব – ক্রেডিট

মালিক ব্যক্তিগত অর্থ থেকে ব্যবসায়ের জন্য আসবাবপত্র কিনলেন ১০,০০০ টাকা।

জাবেদা:
আসবাবপত্র হিসাব – ডেবিট
মুলধন হিসাব – ক্রেডিট


আশাকরি, সবাই এ নিয়মগুলো ভাল করে বুঝলে জাবেদা ভুল করবে না। কোন কিছু বুঝতে না পারলে কমেন্ট করে জানাবেন। ভুল হলে ক্ষমা করবেন!!! ধন্যবাদ।


সাধারণ জাবেদা দাখিলা


 

2 Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *