চাহিদা পূর্বানুমান এবং চাহিদা পূর্বানুমান করার বিভিন্ন পদ্ধতি

চাহিদা পূর্বানুমান: সরবরাহ শিকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ চাহিদার পূর্বানুমান করা উচিত। সাধারণত অজানা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার প্রক্রিয়া হলো পূর্বানুমান। তাই বলা যায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ চাহিদার অনুমানকে চাহিদার পূর্বানুমান বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, চাহিদা পূর্বানুমান হলো ঐ সকল পণ্য এবং সেবাসমূহের পরিমাণ নির্ধারণ করা যেগুলো ভোক্তারা ক্রয় করবে। সকল সরবরাহ শিকল পরিকল্পনার ভিত্তিতে চাহিদার পূর্বানুমান করা হয়ে থাকে। ধাক্কা বা টানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হলে এ ব্যাপারে যথার্থ ধারণা লাভ করা যায়। ধাক্কা বা টানা প্রক্রিয়ায় ক্রেতার চাহিদা পূর্বানুমান করেই সরবরাহ শিকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

চাহিদা পূর্বানুমান পদ্ধতি: কোনো প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে পূর্বানুমান করতে হলে সঠিক পূর্বানুমান পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। পূর্বানুমান পদ্ধতিকে নিম্নরূপ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
১. গুণবাচক পদ্ধতি;
২. কালীন সারি প্রক্ষেপণ পদ্ধতি;
৩. কার্যকরণ সম্পর্কীয় পদ্ধতি; এবং
৪. অনুকরণ পদ্ধতি। নিচে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. গুণবাচক পদ্ধতি: গুণবাচক পদ্ধতি প্রাথমিকভাবে বিষয়ভিত্তিক এবং এটা মানুষের বিচার-বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। এরূপ পূর্বানুমান অধিকতর সঠিক হয়। কেননা এক্ষেত্রে কতিপয় ঐতিহাসিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বছরের চাহিদা পূর্বানুমানের জন্য এরূপ পদ্ধতির প্রয়োজন ।

২. কালীন সারি পদ্ধতি: এটি একটি সহজ পদ্ধতি, যার দ্বারা চাহিদা পূর্বানুমান করা যায়। কালীন সারি ঐতিহাসিক চাহিদার ভিত্তিতে ধারণা পোষণ করা হয়, যা ভবিষ্যৎ চাহিদা পূর্বানুমানে সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকে।

৩. কার্যকারণ সম্পৰ্কীয় পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ধারণা করা হয় যে, চাহিদার পূর্বানুমান পরিবেশের নির্দিষ্ট কতগুলো উপাদানের সাথে সম্পর্কিত। এ পদ্ধতিতে চাহিদা ও পরিবেশের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক খোঁজা হয় এবং ভবিষ্যৎ-এর চাহিদা পূর্বানুমান দ্বারা পরিবেশের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়।

৪. অনুকরণ পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ক্রেতাদের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়া হয় বা অনুকরণের চেষ্টা চালানো হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি প্রতিষ্ঠান কালীন সারি এবং কার্যকারণ সম্পর্কীয় পদ্ধতিকে একত্রিত করে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। যেমন:

(ক) মূল্য প্রসারের প্রভাব কি হবে?
(খ) প্রতিবেশী যদি কাছাকাছি কোনো স্টোর খুলে তবে কিরূপ প্রভাব পড়বে? [শারমিন জাহান সায়মা]


সহায়িকা: রাসুল, ড. মোঃ সিরাজুর এবং ইসলাম, মোঃ নজরুল, প্রকল্প পরিকল্পনা, (২০১৬/২০১৭), কমার্স পাবলিকেশন্স, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২৪৮-২৫১।


চাহিদা পূর্বানুমান করার বিভিন্ন উপায়


Follow Us on Our YouTube channel: GEONATCUL


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *